রূপগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলা
মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৩
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রুপগঞ্জে জমিসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধসহ তিনজনকে মারধরে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বুধবার সকালে মাছুমাবাদে ঘটে এ ঘটনা।
ভুলতা ইউনিয়নের মাছুমাবাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়া, তার ছেলে জুম্মন ভূঁইয়া ও সুমন ভূঁইয়ার অভিযোগ করেন, তাদের কাছে এলাকার মৃত আব্দুল হাই ভূঁইয়ার ছেলে সোহেলসহ তাদের লোকজন দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে যে কোনো সময় হামলা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ১ জুন রাত ১০টার দিকে সোহেল ভূঁইয়াসহ তুষার, সাদ্দাম, রোমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুম্মন ভূঁইয়াদের মুদি মনোহারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়াকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং জুম্মন ভূঁইয়া ও তার ভাই সুমন ভূঁইয়াকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর হামলাকারী সোহেল ভূঁইয়া আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। তবে, হাসপাতালের কাগজেপত্রে সোহেল ভর্তি থাকলেও বাস্তবে ভর্তি নেই। ৩ জুন সকালে সোহেল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ওই সন্ত্রাসীরা আবারও মুক্তিযোদ্ধা বাছেদ ভূঁইয়ার বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বাছেদ ভূঁইয়া, জুম্মন ভূঁইয়া ও সুমন ভূঁইয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। আহতদের রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বাদল কুমার সাহা জানান, স্বাভাবিক ইনজুরি নিয়ে সোহেল ভূঁইয়া ভর্তি হলেও পরদিন ওই রোগীকে হাসপাতালের বিছানায় পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ওই রোগী পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারের রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বাছেদ ভূঁইয়ার ভাতিজা সোহেল ভূঁইয়া। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থেকে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
