দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে বিএনপি কর্মীকে হত্যা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর সবুজবাগে পানিরপাম্প এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ইব্রাহিম পলাশ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সবুজবাগের রাজারবাগ বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। দুই হাত বিচ্ছিন্ন করা ছাড়াও তার বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাশ বিএনপিকর্মী। তাকে যারা মেরেছে তারাও বিএনপির লোক। জানতে চাইলে সবুজবাগ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নিহত পলাশ নব্য-বিএনপিকর্মী। তাকে যারা মেরেছে তারাও একই দলের লোক। পলাশ তিন দিন আগে রয়েল নামে একজনের বাবা-মাকে মারধর করে। এর জেরেই রয়েল ও তার লোকজন পলাশকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
বিরোধের কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, রয়েলের এক শিষ্যের কাছে টাকা পায় পলাশ। সেই টাকা দেয় না পলাশকে। টাকা চাইতে গেলে রয়েল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এখান থেকেই বিরোধের শুরু। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান ওসি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজারবাগ বাজারে পানিরপাম্পসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে পলাশের ওপর হামলা চালায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহত পলাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় থাকতেন।
নিহতের বোন জোসনা আক্তার বলেন, হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছেন তারা। এর মধ্যে স্থানীয় রয়েল, সবুজ ও নাঈমের নাম বলেছেন কয়েকজন।
এদিকে পলাশকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তার বন্ধু মো. হিরা জানিয়েছেন, ৪-৫ দিন আগে এলাকার গ্যারেজ থেকে একটি রিকশা চুরি করে নিয়ে যায় সবুজ। পলাশ সেই রিকশা উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে সবুজের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয় পলাশের। তারই জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
