বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যানারে ছয় নেতার ছবি নিয়ে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক তিন ঘণ্টা বন্ধ
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যানার নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়। প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে জামায়াত ও বিএনপির ছয় নেতার ছবিসংবলিত ওই ব্যানার টাঙানো হয়। ছাত্রদল নেতারা ব্যানারটি সরিয়ে নিতে বলার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।
এতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিক ও একই শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা এবং বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের জিএস পদপ্রার্থী (শিবির সমর্থিত) মেহেদী হাসান।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ‘একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতা বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ উল্লেখ করা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পালটাপালটি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্ট্যাম্প দিয়ে শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে মারধর করে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রদর্শনীস্থলের সামনে শিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয়পক্ষ পালটাপালটি স্লোগান দিতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সড়ক যোগাযোগ সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে না জানিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে আক্রমণ করে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সরাতে বললে হামলা চালায় শিবির। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রলীগের উসকানিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করব।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।
