রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর দুটি ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় এক প্রবাসীর দুটি ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগ উঠেছে শাহাজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের জুনে ১৭৬ নম্বর (হোল্ডিং নম্বর) বাসার ৬ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি ফ্ল্যাট ৫ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ২০২৩ সালের জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি বাসা ছাড়ছিলেন না। এ নিয়ে দেনদরবারের পর গত নয় মাস ধরে তিনি ভাড়া না দিয়ে থাকছেন। বাড়ির মালিক থানায় অভিযোগ করলেও শাহাজাদাকে সরানো যায়নি।
জানতে চাইলে শাহাজাদা যুগান্তরকে বলেন, আমি কারও ফ্ল্যাট দখল করেনি। বিষয়টি নিয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে। এটা নিয়ে বিস্তারিত জানতে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলতে পারব না। কথা হয় ভবন মালিক আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলছেন, শাহাজাদা তো ভাড়াটিয়া। তিনি আবার কিভাবে মামলা করবেন। আদালতের কাছ থেকে কোনো সমন বা এরকম কিছু পাইনি। ফ্ল্যাটটি দখলে রাখতে এমন সব তথ্য ছাড়ানো হচ্ছে। আমি তাকে উকিল নোটিশ দিয়েছি, থানায় অভিযোগ জানিয়েছি, স্থানীয়দের দিয়ে বলিয়েছি। তিনি আজ-কাল বলে সময় নষ্ট করছে।
বাড়ির মালিকের অভিযোগের তদন্ত করছেন তেজগাঁও থানার এসআই রুবেল। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে একাধিকবার গিয়েছি। শাহাজাদাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলা হলেও তিনি বাসা ছাড়েননি। তাকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তিনি থানায়ও আসেনি। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীকে আদালতের দারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী গঠনের ব্যানারে ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি ফ্ল্যাট দখলে রাখা হয়েছে। সেখানে খানকা শরিফের নামে সুফি সাধকদের আধ্যাত্মিক চর্চা, জিকির-আসকার, তাযকিয়ায়ে নফস (আত্মশুদ্ধি) এবং ইসলামি জ্ঞান অর্জন চর্চা করা হয় বলে জানা গেছে। এতে অংশ নিতে প্রতি মাসের শতাধিক নারী-পুরুষের জমায়েত হয় ফ্ল্যাট দুটিতে। রাতভর চলে উচ্চশব্দে গান-বাজনা। যা নিয়ে অতিষ্ঠ আশপাশের লোকজন।
বাসার ম্যানেজার আব্দুস ছাত্তার যুগান্তরকে বলেন, সবকিছুই শাহাজাদার নিয়ন্ত্রণে। নিজে বসবাস না করলেও সেখানে তার ভক্ত-সমর্থকদের থাকতে দেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এসব নারী-পুরুষ এক সঙ্গে রাতযাপন করেন। গান-বাজনা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভাড়াটিয়া যুগান্তরকে বলেন, প্রতি মাসের শেষের দিকে মাহফিলের নামে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। বাজানো হয় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর আক্রমণ করা হয়। হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পর্যন্ত চায় না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসার নারী-পুরুষরা বিভিন্ন ধরনের নেশা সেবন করে বলে অভিযোগ দেন আরেক ফ্ল্যাট মালিক। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ এক সঙ্গে নেশা করে। এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।
