ব্যবসায়ীকে এলাকা ছাড়ার হুমকি কদমতলীর ওসির
আইজিপির কাছে অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান, ওসি (তদন্ত) সজিব কুমার ও উপপরিদর্শক (এসআই) অশোক কুমারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামুন মাদবর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৫ জুলাই কদমতলীর দনিয়া এলাকার মো. আব্দুল ওয়াহিদ মোল্লার কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য একটি দোকান ভাড়া নেন মামুন। চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ২০৩২ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত চুক্তিতে দোকানের অগ্রিম জামানত ১৬ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া ৫১ হাজার টাকা ঠিক হয়। এর মধ্যে ২৮ জুলাই নগদ ১০ লাখ টাকা দেওয়ার দুই দিন পর দোকান মালিক ওয়াহিদ মোল্লা মারা যান। পরে ১০ আগস্ট তার স্ত্রী মাহমুদা ইসলামের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাকি ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করেন মামুন।
অভিযোগে বলা হয়, ১ আগস্ট দোকানে মালামাল তুলতে গেলে মালিকের স্ত্রী মাহমুদা বাধা দেন। এর প্রতিকার চেয়ে ১৪ আগস্ট কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মামুন।
পরে ২৫ আগস্ট জিডির অগ্রগতি জানতে থানায় গেলে ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান তাকে নিজের কক্ষে ডাকেন। মামুনের অভিযোগ, এ সময় ওসি দোকানের মূল চুক্তিপত্রটি ওসি (তদন্ত) সজিব কুমারের কাছে জমা রাখেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অশোক কুমারকে তার বিপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামুনের দাবি, ওসি তাকে গালাগাল করেন এবং দোকান বা চুক্তিপত্র কোনোটিই পাবেন না বলে হুমকি দেন। পাশাপাশি ছয় লাখ টাকা ফেরত নিয়ে বাকি ১০ লাখ টাকা না পাওয়ার আশঙ্কার কথা বলেন। দোকানের আশপাশে গেলে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং কদমতলী থানায় তার কর্মকাল পর্যন্ত কীভাবে ব্যবসা করেন, তা দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানটি অন্য কাউকে ভাড়া দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কাছে আবেদন করেন মামুন। পরে আইজিপির কাছে দেওয়া অভিযোগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোকানে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মামুন বলেন, এ ঘটনায় তিনি আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে কদমতলী থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন। দোকান বা জমিসংক্রান্ত বিরোধ পুলিশ সমাধান করতে পারে না। এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে ওই ব্যবসায়ীকে বলা হয়েছে। জিডির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’
