ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে গাছায় দিনভর সশস্ত্র মহড়া ভাঙচুর
Advertisement
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ডেগের চালা এলাকায় ইনডেসোর সোয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিনভর দফায় দফায় মহড়াকে কেন্দ করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহড়ার সময় রাস্তার দুই পাশের বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে রামদা দিয়ে কুপিয়ে কাঠ ও টিনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে টুটুল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডেগের চালা রোডে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক দফায় লোকজন জড়ো হয়ে মহড়া দেওয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে লোকজন বাড়িঘরের দরজা-গেট বন্ধ করে ফেলেন এবং ব্যবসায়ীরা দোকানের সাটার নামিয়ে ভেতরে অবস্থান নেন। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ অভিযোগ করেন, ইনডেসোর সোয়েটার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তিনি নিয়মিত ঝুট উত্তোলন করে আসছেন। সম্প্রতি একটি পক্ষ জোরপূর্বক ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা থেকে ঝুট নামানোর সময় গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান ওরফে মন্না, গাছা থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, গাছা থানা যুবদলের আহ্বায়ক রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিন্টু সরকার, সাবেক ছাত্রদল নেতা মমিন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী মোটর শ্রমিক লীগের সভাপতি শিবলু খান এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজহার মাহমুদ খানের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। তাদের হাতে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আব্দুল হামিদের ভাষ্য, ওইসব লোক তাকে ঝুট বের করতে বাধা দেয় এবং দিনভর কয়েক দফায় সশস্ত্র মহড়া দেয়। এ সময় আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কল ধরেননি।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানি বলেন, ‘ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষ মারমুখী অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশ চলে আসার পর আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
