রায়গঞ্জ ও কুষ্টিয়া
এমপি আয়নুল ও আমির হামজার গাড়িতে হামলা
Advertisement
সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে শনিবার সন্ধ্যায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। এদিকে এদিন সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলা হয়েছে। হামলার জের ধরে জামায়াত-গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় আমির হামজার গাড়ি। পাশাপাশি হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক বিকালে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে একটি সভায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় সংসদ সদস্যের গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি এ ঘটনার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে দায়ী করেছে। হামলার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলার খবরে উপজেলার চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী মর্তুজা বলেন, কোনো কিছু হলেই জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস। অন্যদিকে সংসদ সদস্য আয়নুল হক তার গাড়িতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়িতে হামলার বিষয়ে জানা গেছে, ‘গণঅধিকার পরিষদ দুজনের দল’-সম্প্রতি আমির হামজার এমন বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক। বিকাল ৫টা থেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এই সমাবেশস্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আমির হামজার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান। এরপর গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
আমির হামজা বলেন, গণঅধিকারের খালেক ও তৌকির আমার গাড়িতে হামলা করেন। ইটের আঘাতে গাড়ি ভেঙে আমার চাচার পা কেটে গেছে। আমিও কপালে আঘাত পেয়েছি। আমার দলের সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গণঅধিকারের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে এমপির সমর্থকরাই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। দলের অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।
