ঢাবির ফজলুল হক হল অফিসে তালা
ছাত্রদল-শিবিরের পালটাপালটি অভিযোগ
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এবং এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এর মধ্যে হল অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ছাত্রদলের অভিযোগ : উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রদল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের নামে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এনে হল অফিসের সামনে ‘মব’ তৈরি ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। এসব ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে তারা।
চার দফা দাবি শিবিরের : প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সংগঠনটির অভিযোগ, ফেসবুকে হলের খাবারের মান নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কক্ষে ডেকে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে প্রভোস্টের কর্মচারীদের মাধ্যমে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। ছাত্রত্ব ও সিট বাতিল এবং সাইবার মামলার ভয় দেখিয়ে তাকে লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করানো হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিবিরের দাবি, পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করানো হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে হল সংসদের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. তায়েফসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেছে শিবির।
ডাকসুর দাবি : প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পদত্যাগ দাবি করেছে ডাকসু। এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, প্রভোস্টের কক্ষে এক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। জিএস এসএম ফরহাদ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।
তিন দফায় হল অফিস বন্ধ : শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বহিষ্কারসহ ব্যবস্থা এবং ফুটেজ মুছে ফেলা হলে অভিযোগ সত্য ধরে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা। হলের শিক্ষার্থী আবু নাঈম জানান, কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় হল অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি : রোববারের ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, ড. এনামুল হক সজীব ও মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী। ফজলুল হক মুসলিম হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আল আমীন সিকদার সদস্যসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
