নবাবগঞ্জে যুবদল নেতাকে ডেকে নিয়ে হত্যা
আটক ২
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার নবাবগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু নামে এক যুবদল নেতাকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর তার লাশ কালীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. তামিম ও শাওন হোসেন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ।
সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের খতিয়া এলাকায় মোবাইল ফোনে সেন্টুকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় রাতেই থানায় অভিযোগ করেন তার ছোট ভাই বিপ্লব।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পরে লাশ কালীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সেন্টু খতিয়া এলাকার আউশ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো পদে ছিলেন কি না, তা জানাতে পারেনি পরিবার।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে খতিয়া এলাকার বাদল মিয়া ফোন করে সেন্টুকে বাড়ির বাইরে যেতে বলেন। স্ত্রীকে বাড়ির অদূরে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন তিনি। মোবাইল ফোনে চার্জ কম থাকায় সেটি বাড়িতেই রেখে যান। দীর্ঘ সময় পরও তিনি না ফেরায় ছোট ভাই বিপ্লব নদীর পাড়ে গিয়ে অনেক রক্ত পড়ে থাকতে দেখেন। খোঁজাখুঁজি করেও সেন্টুকে না পেয়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেন্টুকে খুঁজে পায়নি। হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে-এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের চার ডুবুরি নদীতে অভিযান চালান। তবে সে াত থাকায় তারা ব্যর্থ হন।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তামিম ও শাওনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
সেন্টুর স্ত্রী শম্পা আক্তার বলেন, খতিয়া জাগ্রত যুবসংঘ আয়োজিত ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকালে ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে তার স্বামীর কথা কাটাকাটি হয়। রাতে বাদল ফোনে কথা বলার পর সেন্টু বাইরে বের হন। এরপর আর ফেরেননি। সেন্টুর মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করেছিল যে, তাকে হত্যা করল?’
