সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য
নেই পর্ষদ বা বোর্ড বেড়েছে স্বেচ্ছাচারিতা
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন হলেও এখনো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ও পরিচালনা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। কিছু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেয়াদ শেষ হলেও সেগুলোও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের শূন্যতা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে এ চিত্রই উঠে এসেছে। তবে এই অবস্থার উত্তরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই উদ্যোগ নেবে বলে যুগান্তরকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ৫ আগস্টের পর মহাপরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে যারা ছিলেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আরজু আরা বেগমকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে কাউকে মনোনীত করা হয়নি। চেয়ারম্যান না থাকায় পরিচালনা বোর্ডের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় বলা যায়। সূত্র বলছে, গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে।
এতে ৪ জন বোর্ড সদস্য মনোনীত করা হলেও চেয়ারম্যানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলা একাডেমিতেও সভাপতি পদটি বর্তমানে শূন্য। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমকে মহাপরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে তিন বছরের জন্য সভাপতি নিয়োগ দিয়েছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তার মৃত্যুর পর থেকে সভাপতির পদটি শূন্য। এখনো সভাপতির বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দুই দফা ডিজি পদ পরিবর্তন হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া নাট্যজন অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে না পেরে পদত্যাগ করেন। পরে দায়িত্ব নেন কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন)। সম্প্রতি তারও মেয়াদ শেষ হয়েছে। নানা অপকর্মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির সচিব জাকির হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাপরিচালক, সচিব ও পর্ষদ ছাড়াই চলছে শিল্পকলা একাডেমি। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলেও পরবর্তী সময়ে পর্ষদের একাধিক সদস্য পদত্যাগ করেন। ফলে শিল্পকলা একাডেমির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটেও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী লতিফুল ইসলাম শিবলীকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দুই বছরের চুক্তিতে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেপ্টেম্বরেই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে নতুন প্রজ্ঞাপন বা পুনর্নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পদটি নিয়ে এক ধরনের অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব যুগান্তরকে বলেন, স্বায়ত্তশাসিত এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাচ্ছেতাইভাবে চালানো হচ্ছে। এতে সেখানে বেড়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, কমেছে কাজের গতি। আর এই সুযোগে এক একটা প্রতিষ্ঠান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিকট থেকে হাতছাড়া হচ্ছে। তারা এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম যুগান্তরকে বলেন, ‘শিগগিরই সব পদ পূরণ হয়ে যাবে। কিছু আইনগত বিষয় আছে। এসব দেখে খুব শিগগিরই পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।’

