দুদকের ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফের রিট
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন আসিফ মাহমুদ। রিটে ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের করা প্রেস ব্রিফিংকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার বিধান এবং দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা-২০১১’-এর পরিপন্থি কেন নয়, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুল জারি হলে সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদককে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য একই গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যাহার করে প্রকাশের অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ্যে সত্য হিসাবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দুদক বা এর জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়নি। অনুসন্ধান শুরুর পরপরই এ ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। এতে বিচার হওয়ার আগেই নির্দোষ থাকার আইনি ধারণা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হওয়ার কথা জানানোর সময় এসব ব্রিফিং করা হয়। তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও রিটে দাবি করা হয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর দুদক আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ওই ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত বলে ব্যাখ্যা করে।
রিটে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারি আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি তুলে ধরে অভিযোগের প্রতিবাদ করেন। পরদিন তার আইনজীবী দুদকে আইনি নোটিশ পাঠান। এরপরও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করে বিভিন্ন নিয়োগ, পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের কথা জানায়। রিটকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা বা ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’-এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো কর্তৃত্ব দুদকের নেই।
