পরিচালকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
স্থগিত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অনুষ্ঠান
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কয়েকজন প্রকাশকের প্রতিবাদের মুখে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের একটি নির্ধারিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা স্থগিত করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে বেসরকারি গ্রন্থাগারে অনুদান হিসাবে বই প্রদান ও সরবরাহের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ‘বুক প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সফ্টওয়্যার’র পরিচিতি, পর্যালোচনা ও মতামত সংগ্রহের জন্য সভাটি আয়োজন করা হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রকাশকদের অভিযোগ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাকে ঘিরে প্রকাশকদের প্রতিবাদের মুখেই সভাটি স্থগিত করা হয়েছে বলে কয়েকজন প্রকাশক জানিয়েছেন।
তারা জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তখন তার অপসারণের কারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল, বই ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত ২০ শতাংশ ‘মন্ত্রী-সচিব কোটা’ বাতিলের উদ্যোগ এবং তৎকালীন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তাকে সরানো হয়েছিল। তবে এটি তার বক্তব্য হিসাবে প্রকাশিত দাবি; সরকারি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসাবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল কি না, তা আলাদা বিষয়।
প্রকাশকদের যত অভিযোগ : জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পক্ষের প্রকাশকদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে পরিচালক কার্যকর ভূমিকা নেননি। তাদের ভাষ্য, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের বিরোধী বা আওয়ামী লীগপন্থি হিসাবে তারা যেসব প্রকাশককে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন, তাদের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা না করে পরিচালকের ওপর গ্রন্থকেন্দ্রের মুষ্টিমেয় কর্মকর্তাদের প্রভাব বেড়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রকাশকদের অংশগ্রহণ কমেছে।
বই ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, আফসানা বেগম গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বই ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। বই নির্বাচন ও ক্রয়ে তার ভূমিকা, কোন বই কত কপি কেনা হয়েছে এবং কেন একটি বই ২০ কপি, অন্যটি ৭০ কপি কেনা হয়েছে-এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। গত অর্থবছরের বই ক্রয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং ক্রয় কমিটির সদস্যদের পরিচয় প্রকাশের দাবি রয়েছে।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রকাশকদের জন্য পরিচালিত অনলাইন গ্রুপ থেকে কয়েক প্রকাশককে বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক নিজেও লেখক ও অনুবাদক। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বই কিনেছে কি না, কিনে থাকলে তা নিয়ম মেনে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না-তা তদন্তের দাবি করেছেন তারা। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষক নির্বাচন, বই নির্বাচন এবং ‘বই’ পত্রিকায় লেখক বাছাই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রকাশকরা।
বিভাগীয় বইমেলা : বিভাগীয় বইমেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশকদের ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকাশকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত বছরের একুশে বইমেলায় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ বাতিলের দাবি উঠলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
এ বিষয়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আপনারা নিজেরা পুরো ঘটনাটা যাচাই করে নিউজটি করুন। যদি কোনো প্রকাশকের কথায় নিউজ করতে যান তাহলে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
