মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদে সংঘর্ষ
নতুন করে বসেনি কোনো হকার
ফাঁকা ফুটপাত পেয়ে পথচারীদের স্বস্তি, সারা বছর এমন রাখার দাবি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানের পর শুক্রবার তৃতীয় দিনে নতুন করে কোনো হকার বসতে দেখা যায়নি। মূল রাস্তা ও ফুটপাতে হকারদের দোকানের পড়ে থাকা ভাঙা চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ফাঁকা ফুটপাত পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংঘর্ষের ঘটনায় মিরপুর ও কাফরুল থানায় হওয়া ৪ মামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এদিকে ফুটপাত নতুন করে দখল করতে গেলে দ্বিগুণ শক্তিতে অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটমুখী সড়ক ও ফুটপাতে কোনো দোকান বসানো হয়নি। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছেন হকাররা। হোপের গলিতে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানো হচ্ছে। পথচারীরা স্বস্তিতে চলতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সারা বছর যেন এভাবেই ফুটপাত ফাঁকা থাকে সেই প্রত্যাশা তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কঠিন। উচ্ছেদের পর হকারদের পুনরায় বসার সুযোগ বন্ধ করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এ জন্য হকার বসানোর নেপথ্যে যেসব চাঁদাবাজ রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে মসজিদের নিচের দোকানে আগুন ধরে যায়। তখন মসজিদে আগুন লেগেছে-এমন গুজব ছড়িয়ে অভিযানকারীদের ওপর হামলা করেন হকাররা। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়ি, এক্সকেভেটর, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও কয়েকটি বাসও ভাঙচুরের শিকার হয়। পুলিশ সদস্য, সিটি করপোরেশনের কর্মী ও গণমাধ্যমের কর্মীরা আহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলাগুলোতে নামধারী আসামির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর থানায় সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটিসহ মোট তিনটি মামলা হয়েছে। তিন মামলায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ সিটির গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে করপোরেশন বাদী হয়ে তার থানায় একটি মামলা করেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
