Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক

ব্যাংক খাত নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় কমিটি

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ব্যাংকিং খাতে শতভাগ স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ তাগিদ দেওয়া হয়েছে কমিটির বৈঠকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে নৈরাজ্য হয়েছে তা দূর করা, ব্যাংকের ওপর জনআস্থা ফেরানো, যে কোনো মূল্যে অর্থ পাচার এবং খেলাপি ঋণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক অবস্থার ওপর আরও গভীর এবং নির্ভুল তথ্য-উপাত্তসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা ফেরানোর রূপরেখা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পেশ করা হয়। কমিটির সদস্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শফিকুর রহমান (কিরণ), মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি কমিটির বৈঠকে রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হলে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বিএনপি ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ঋণখেলাপিরা যাতে নতুন করে ঋণ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান বৈঠকে। জামায়াতের সাইফুল আলম মিলন বৈঠক শেষে বলেন, আমরা বলেছি ১৭ বছরের লিগ্যাসি দূর করতে হবে। ব্যাংকের বোর্ড ঋণ অনুমোদন করে। অথচ মামলা হলে বোর্ডের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন, তাই বোর্ডের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অর্থ পাচার এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। প্রস্তাবগুলো অর্থমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। পরবর্তী বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে একগুচ্ছ প্রস্তাব বিরোধী দলের : এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ব্যাংক খাত সংস্কারে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দলের সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন ও পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা কমানো, বড় ঋণের ক্ষেত্রে পেশাদার ক্রেডিট কমিটির যাচাই, কেন্দ্রীয় জামানত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু এবং খেলাপিদের ঋণ সুবিধা সীমিত করা। বৈঠক শেষে সাইফুল আলম খান মিলন সাংবাদিকদের কাছে দলটির প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের ওপর ব্যাংকের বিনিয়োগ বা লোন, যেটাই বলেন, এর দায়িত্ব তাদের কাছে আমরা রাখতে চাচ্ছি না। ঋণ অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে তা অনুসরণের দায়িত্ব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দেওয়া উচিত। বড় ঋণের ক্ষেত্রে পেশাদার ক্রেডিট কমিটির যাচাইয়ের পর ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, অন্যান্য অফিসার যারা কমার্শিয়াল ব্যাংকের সুপারভিশনের সঙ্গে রিলেটেড, এদের সমস্ত টেলিফোন কথাগুলো রেকর্ড করতে হবে। একই জামানত একাধিক ব্যাংকে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় জামানত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় একটি পরিবারের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকের শেয়ার ধারণের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

খেলাপিদের অন্য ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ বা অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার ওপরও জোর দেন সাইফুল। উইলফুল ডিফল্টার নির্ধারণ করতে হবে। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণে ফরেনসিক অডিটের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফরেনসিক অডিট করতে হবে। আমার আসলে এনপিএল কত, এটা আমি জানতে পারছি না। এ ছাড়া দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোরও প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। এ বিষয়ে সাইফুল বলেন, এতটুকু দেশে এত ব্যাংক আমাদের দরকার নেই।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ : জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ-সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির প্রথম বৈঠকে এ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। ককাসের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে ককাসের সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, মো. আনোয়ারুল হক, রুমিন ফারহানা ও মারজিয়া বেগম অংশ নেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা আহত ১০

সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা আহত ১০

সরকারি হাসপাতালের রোগী যাবে চার প্রাইভেটে

সরকারি হাসপাতালের রোগী যাবে চার প্রাইভেটে

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ব্যাংক খাত নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় কমিটি

ব্যাংক খাত নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় কমিটি

হাসপাতাল তদারকির দায়িত্বে ৫৪ কর্মকর্তা

হাসপাতাল তদারকির দায়িত্বে ৫৪ কর্মকর্তা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম