Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

বিচারক বললেন-এ রায় সমাজের প্রতি বার্তা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক পোশাক কারখানার কর্মীকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারক রায়ের আগে পর্যবেক্ষণে বলেন, এ রায় ‘সমাজের প্রতি বার্তা’। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। পাশাপাশি তাদেরকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আর ছিনতাই করা মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে দেওয়া হয়েছে তিন বছরের কারাদণ্ড। বর্তমানে সুজন পলাতক রয়েছেন।

রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, বর্তমানে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। অনেকের মধ্যে ধারণা জন্মেছে, এসব ঘটনায় বিচার হয় না।

সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ মামলায় ভিকটিমের বয়স ১৭ বছর আর উপার্জনক্ষম ছিল। সমাজের প্রতি বার্তা দেওয়ার জন্য এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পরে আদালত আসামিদের সাজার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্যার, আমরা পোলাপাইন মানুষ, জীবন শেষ হয়ে গেল। বাঁইচ্যা তো লাভ নাই। পরকালে একটা বিচার আছে।’ পরে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নেওয়ার পথে আসামিরা নিজেদের ‘নির্দোষ দাবি’ করে বলতে থাকে, পুলিশ মারধর করে জোর করে ‘আমাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে’। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল হক উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে লিবার্টি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যান তিনি। রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলে, তিনি নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছেন। ‘কথা আছে’ বলে সায়মান ও রিফাতকে ভয় দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যায় তারা। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে নামিয়ে দেওয়া হয় রিকশা থেকে। আর সায়মনকে স্মৃতিসৌধের ভেতর নিয়ে যায় ওই তিনজন। চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে। সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অপরাধে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড বিচারক বললেন-এ রায় সমাজের প্রতি বার্তা

বিচারক বললেন-এ রায় সমাজের প্রতি বার্তা

নান্দনিক ধানমন্ডি লেকে আতঙ্ক সন্ধ্যা নামলেই কিশোর গ্যাং অন্ধকারে মাদকের আসর

সন্ধ্যা নামলেই কিশোর গ্যাং অন্ধকারে মাদকের আসর

চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার এড়াল শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা!

চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার এড়াল শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা!

ধানমন্ডি লেকের প্রাণ ফেরাতে পুনঃখনন শুরু

ধানমন্ডি লেকের প্রাণ ফেরাতে পুনঃখনন শুরু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম