দুই দিনে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ-মদ ল্যাপটপ আটক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে দুই দিনে তিন কোটি ২৩ লাখ টাকা স্বর্ণ, মদ, ডার্মাল ফিলার, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এছাড়া সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ যৌথভাবে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্যের আটটি চালান আটক করেছে। শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন যাত্রী কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। আটক স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ছয় হাজার টাকা। একই দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৩০ লিটার মদ আটক করা হয়। মুম্বাই থেকে আগত এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের একজন যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষা করে ১৬ লিটার মদ পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিমানবন্দরের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭.৫ লিটার এবং অপর দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৬.৫ লিটার মদ আটক করা হয়। আটক মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকা।
এরপর শুক্রবার শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের একজন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে চার ধরনের মোট ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। আটক পণ্যের বাজারমূল্য ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকা বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিস থেকে এক হাজার ১০৪ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও ২৩টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
কৃষিপণ্য ঘোষণায় কসমেটিক্স আমদানি : অন্যদিকে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ যৌথভাবে আটটি চালান আটক করেছে, যাতে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়া গেছে। কম শুল্কের পণ্যের আড়ালে চীন ও পাকিস্তান থেকে নিয়ে আসা হয়েছে কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের নামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, ফেস মাস্ক, অ্যান্টি-এজিং জেল, বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম, লেজার লাইট, গাড়ির দামি ইঞ্জিন পার্টস, বিয়ারিং এবং নাট-বোল্ট।
ঢাকার নিউ মার্কেটের আমদানিকারক ‘ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং’ চীন থেকে কৃষি খাতের ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি ‘পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন’ আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, মেশিনের বদলে কনটেইনারে রয়েছে স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেথ, পিলিং জেল, সিরাম, বিভিন্ন ধরনের এলইডি লাইট, সানগ্লাস এবং ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু। ফাঁকিকৃত রাজস্বের পরিমাণ আনুমানিক ২.৫ কোটি টাকা।
পুরান ঢাকার চকবাজারের ‘কাফ করপোরেশন’ চীন থেকে সাড়ে ২২ টন সাধারণ ‘টুথপিক’ আনার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া যায় এক হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক। বাকি ১৫ দশমিক ৭ টনের জায়গায় ছিল ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত এবং বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ পাকিস্তানের ‘গৌরি বিউটি ক্রিম’, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, প্রিমিয়াম সানগ্লাস এবং যৌন উত্তেজক ‘ডিলে স্প্রে’। ফাঁকিকৃত রাজস্বের পরিমাণ দুই কোটি ৮০ লাখা টাকা।
ঢাকার ‘এইচ আর এন্টারপ্রাইজ’ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার কেজি কম শুল্কের ‘ইঞ্জিন রাবার বুশ’ আমদানির ঘোষণা দেয়। কায়িক পরীক্ষায় প্রকৃত রাবার বুশ পাওয়া গেছে ছয় হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি প্রায় ১৩ হাজার কেজির পুরোটাই ছিল অরিজিনাল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো দামি মোটরপার্টস। এছাড়া নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স ‘হিট ট্রান্সফার পেপার’ ঘোষণায় উচ্চ শুল্কের ‘পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার’ আমদানি করে। ফাঁকিকৃত রাজস্বের পরিমাণ আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা। বংশালের ‘নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ’ এবং ওয়ারীর ‘মোহাম্মাদিয়া ট্রেড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে শত টন নাট-বোল্ট ও বিয়ারিং আমদানি করে।
