শিশুকে যৌন নিপীড়ন
টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর
থানায় পালটাপালটি মামলা
Advertisement
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন ওই ছাত্রীর স্বজন ও এলাকাবাসী। বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধর করার অভিযোগে থানায় পালটা মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ওই শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও বৃহস্পতিবার থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কয়েকজন। তখন ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্যরকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাকে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন শিশুটির স্বজনরা।
ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে মারধর করছেন কয়েকজন। মাদ্রাসায় থাকা লোকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। বিষয়টি বাড়িতে জানালে তাকে মারধর করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি ঘটনা খুলে বলে। এরপর শিশুটির স্বজনরা বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। এ সময় ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তার মেয়ে ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গত সোমবার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।
শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন বলেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীকেও মারধর করা হয়। মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি।
তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, এ ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হুমকির অভিযোগের বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে শুক্রবার বিকালে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে মাদরাসার নিজস্ব ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হয়। সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলে, যৌন নিপীড়নের যে কোনো অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব। তবে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শিক্ষককে মারধর কিংবা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
