Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

তিন মোবাইল অপারেটর

তরঙ্গ নিলাম করে ১৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের প্রস্তাব বিটিআরসির

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

আগামী ১০ নভেম্বর দেশের প্রধান তিন মোবাইল অপারেটর-গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের ৯০০, এক হাজার ৮০০ এবং দুই হাজার ১০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হবে। এখন তাদের নিলামের মাধ্যমে নতুন করে এই তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নতুন করে ২০ বছরের জন্য বিভিন্ন ব্যান্ডের এই তরঙ্গ নিলাম করতে একটি ভিত্তিমূল্য প্রস্তাব করেছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজ ৩১৬ কোটি, এক হাজার ৮০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজ ২৬৪ কোটি এবং দুই হাজার ১০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজের মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২২৯ কোটি টাকা। এই দামে তরঙ্গ কিনতে হলে মোবাইল অপারেটরদের ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এই দাম অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) বলছে-এত বেশি দামে তরঙ্গ কিনতে হলে গ্রাহকদের সেবার দাম বাড়বে। কমতে পারে সেবার মানও। কারণ এর মধ্যে অনেক ব্যান্ডের কার্যকারিতা বা চাহিদা অনেক কমে গেছে। বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে রবির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেন, তরঙ্গের দাম কমালে জনগণ ও দেশের লাভ হবে। কারণ এখন দেশে ১৯ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক আছেন। তাদের কম দামে সেবা দিতে আগের মতো ৫ বা ১০ মেগাহার্টজ নয়। অপারেটররা একেক ব্যান্ডের ৫০ থেকে ১০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনতে চায়। কারণ এখন সবার অনেক গ্রাহক। তাদের ভালো সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর অপারেটররা।

এক প্রশ্নের জবাবে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, এমনিতে বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের মোট রাজস্ব আদায়ের ৫০ শতাংশের বেশি কর হিসাবে সরকারকে দিতে হয়। এখন তরঙ্গের দাম বেশি রাখলে গ্রাহকসেবার মানে সমঝোতা করতে হবে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান বলেন, ভারতে এসব ব্যান্ডের তরঙ্গের দাম কিছুটা বেশি। কিন্তু তাদের ট্যাক্স, ভ্যাট বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। তাদের গ্রাহক প্রতি আয়ও বাংলাদেশের দ্বিগুণ। তিনি বলেন, অনেক দেশে বিশেষ করে শ্রীলংকার মতো দেশে নামমাত্র মূল্যে তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়ে কমদামে ইন্টারনেট ব্যবহারের উৎসাহ দিচ্ছে। বাংলাদেশও তাই করতে পারে।

সাহেদ আলম বলেন, দেশের জিডিপি ৪ শতাংশের কম। অথচ দুই বছর আগে ৬ শতাংশ ছিল। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো নেই। এই কারণে অপারেটরদের আয় প্রতিবছর প্রায় ১ শতাংশ করে কমছে। যেমন-২০২৩ সালে তিন মোবাইল অপারেটরের আয় ছিল (ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে ) ৩১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৩২ হাজার ১৯৭ কোটি এবং ২০২৩ সালে ৩২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল অপারেটরদের আয় কমছে। এর বাইরে ২০২৫ সালে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অ্যামটবের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার সাংবাদিকদের বলেন, ৯০০ ও এক হাজার ৮০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ সময় এবং প্রযুক্তির কারণে চাহিদা অনেক কমে গেছে। এখন মোবাইল অপারেটর বেশি তরঙ্গ নিয়ে বেশি দিতে চায়। তরঙ্গের দাম বেশি হলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম তরঙ্গে গ্রাহকসেবা দেবে অপারেটররা।

মোবাইল অপারেটররা জানান, তাদের আয়ের ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ তরঙ্গের পেছনে ব্যয় করা হয়। বিশ্বে এ হার গড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।

মোবাইলের একেক তরঙ্গের সুবিধা একেক রকম। ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত এলাকায় নেটওয়ার্কের আওতা তৈরি ও ঘরের ভেতরে সংযোগ পৌঁছাতে বেশি কার্যকর। এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে নেটওয়ার্কের আওতা ও ধারণক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য পাওয়া যায়। আর দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করা হয় মূলত নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতা ও ডেটা সেবার চাহিদা মেটাতে।

তিন অপারেটরের হাতে রয়েছে মোট ৭৯ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৩২ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ, রবির ২২ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংকের ২৪ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উত্তরায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা

উত্তরায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা

উচ্ছেদ অভিযান আসামে বুলডোজারে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলমান

আসামে বুলডোজারে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলমান

সরকার বলপ্রয়োগে শ্রমিক আন্দোলন থামাতে চায়: নাহিদ ইসলাম

সরকার বলপ্রয়োগে শ্রমিক আন্দোলন থামাতে চায়: নাহিদ ইসলাম

তিন মোবাইল অপারেটর তরঙ্গ নিলাম করে ১৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের প্রস্তাব বিটিআরসির

তরঙ্গ নিলাম করে ১৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের প্রস্তাব বিটিআরসির

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম