সিএসএ নিয়ে ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা
খোলস বদলালেও দুর্দশা দূর হচ্ছে না
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পালটে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট করলেও দুর্দশা শেষ হচ্ছে না। দুটিই মূলত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘অনন্ত দুর্দশা : ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে অভিযুক্তদের অবস্থা’ শীর্ষক ওয়েবিনার মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন আলোচকরা।
ওয়েবিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিসটিংগুইশড অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। ওয়েবিনারে আলোচক ছিলেন, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কাইয়ুম, রংপুর জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. রায়হান কবীর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়কারী ও ডিএসএ ভিকটিম নেটওয়ার্কের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুমকী ফারহানা এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল। ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের সব মানুষের অধিকার হরণ করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আইসিটি অ্যাক্ট বাতিল হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হয়েছিল, সেটিও পরিবর্তিত হয়ে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে, কিন্তু সেই ভয়ের আবহ এখনো আছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই আইনের যেভাবে প্রয়োগ হয়েছে তারপরও কেন এ আইন বাতিল করা হবে না? এ আইনের অধীনে অভিযুক্তরা কেন মুক্তি পাবেন না? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে আমাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ওয়েবিনারে ডিএসএ বিষয়ক চতুর্থ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি ঘটনাক্রমের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিতে তথ্যের অনুপস্থিতি রয়েছে। আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুসারে ৭০০১টি মামলা হয়েছে বলা হলেও, এ আইনের অধীনে সর্বমোট গ্রেফতার সংখ্যা, কারাগারে আটক ব্যক্তির সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, সিজিএস’র গবেষণায় প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়েছে ১৪১০টি, মোট অভিযুক্ত ৪৪০৪ জন, যে ক্ষেত্রে গ্রেফতার হয়েছেন ১৫১৯ জন। ১৪৮৬ জন অভিযুক্তের পেশা শনাক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে রাজনীতিবিদ ৩১ শতাংশ, শিক্ষার্থী ৯ শতাংশ, শিক্ষক ৩ শতাংশ এবং সাংবাদিক ২৯ শতাংশ। পেশা অনুযায়ী মোট গ্রেফতার হয়েছে ৫৬৩ জন।
প্রধানমন্ত্রীর মানহানির জন্য মামলা হয়েছে ১৯০টি, গ্রেফতার হয়েছেন ১৬১ জন এবং অভিযুক্ত হয়েছেন ৪৬৪ জন। মন্ত্রীদের মানহানির জন্য মামলা হয়েছে ৮০টি, গ্রেফতার হয়েছেন ৬৮ জন এবং মোট অভিযুক্ত হয়েছেন ৩৩৭ জন। রাজনীতিবিদদের মানহানির দায়ে মামলা হয়েছে ২০৮টি, অভিযুক্ত হয়েছেন ৭২৪ জন এবং গ্রেফতার হয়েছেন ১৩৫ জন। ১০ জন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে দায়ের ১২টি মামলার পর্যালোচনার সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণপূর্বক দেখা যায় যে, বিচারের আগেই দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক রাখা, চার্জশিট দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যক্তিগত স্বার্থে ভিন্ন মতাবলম্বীদের অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। তিনি এক্ষেত্রে সরকারের করণীয় নিয়ে বলেন, সরকারের উচিত এই আইনের অধীনে করা মামলাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা, মামলাগুলোর তথ্য জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করা, এবং একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা।
