গোধূলিলগ্নে মহানায়ক
Advertisement
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর্জেন্টিনার বিখ্যাত আকাশি নীল-সাদা জার্সি তার গায়ে প্রথম উঠেছিল ২০০৪ সালের জুনে। সেটা অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে। হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে লিওনেল মেসির অভিষেক হয় ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। অভিষেকে বদলি হিসাবে নামার এক মিনিটের মধ্যে লাল কার্ড দেখা সেই লাজুক ছেলেটি পরে হয়ে ওঠেন ফুটবল আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। যে নক্ষত্রের আলোয় দীর্ঘদিন জ্বলজ্বল করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল। যার চওড়া কাঁধে সওয়ার হয়ে তারা বিশ্ব জয় করেছে। গড়েছে কোপা আমেরিকা-বিশ্বকাপ-কোপা আমেরিকা জয়ের অনন্য কীর্তি। এত অর্জনের পর, ২১ বছরের দীর্ঘ যাত্রা শেষে এবার থামবেন তিনি। পায়ের জাদু অমলিন থাকলেও একসময় থামতে হয়। সব কিছুরই শেষ আছে। মহাকালের সেই নিয়মকে আলিঙ্গন করে থামছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ।
এবারের ফিফা উইন্ডোয় বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে প্রথম দুটি প্রীতি ম্যাচ মেসিকে ছাড়াই খেলেছে আর্জেন্টিনা। বেনিন ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন মেসি। এই ফেরা শেষবারের জন্য। রোববার মেসি জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার পর বিদায়ের বিষণ্নতা ভর করেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। ৩৯ বছর বয়সি মহানায়ককে যথাযথভাবে বিদায় জানাতে আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মেসির বিদায়ি ম্যাচে ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যাবে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সবাই উপস্থিত থাকবেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির ভাষায়, ‘মনুমেন্তালে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি সবার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মেসির বিদায়ি ম্যাচের জন্য এমন পাঁচটি স্টেডিয়ামের টিকিটও বিক্রি করা সম্ভব ছিল। আমরা সর্বকালের সেরাকে নিয়ে কথা বলছি। সে এমন এক শূন্যতা রেখে যাচ্ছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।’
আর্জেন্টিনার সর্বজয়ী অধিনায়কের বিদায় নিয়ে আবেগাল্পুত সতীর্থরাও। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেছেন, ‘কান্না চেপে রেখে আমরা চেষ্টা করব লিও যেন শেষটা উপভোগ করতে পারে। তাকে ভালোবাসায় ভাসাব, আদরে ভরিয়ে দেব।’ আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২০৭), গোল (১২৫) ও অ্যাসিস্টের (৬৮) সব রেকর্ডই মেসির। শেষটাও হয়তো নতুন কোনো কীর্তিতে রাঙাবেন মহানায়ক। এরপর শুধু ইন্টার মায়ামির জার্সিতে ক্লাব ফুটবলে দেখা যাবে জাদুকরকে।
