Logo
Logo
×

Advertisement

টিউটোরিয়াল

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

Advertisement

Icon

ড. সনজিত পাল, সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মাসি-পিসি-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক হিসাবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যে খ্যাতিমান। তার পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। তার পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক নাম মানিক। মাত্র আটচল্লিশ বছর তিনি বেঁচেছিলেন। অল্প সময়েই প্রচুর গল্প-উপন্যাস সৃষ্টি করেন। সেইসঙ্গে লিখেছেন কিছু কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ ও ডায়েরি। বিজ্ঞানমনস্ক ও সমাজবাস্তবতার শিল্পী হিসাবেও স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্জীবনের অনুভূতির সার্থক রূপকার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তার সাহিত্যে সমাজ বাস্তবতার নির্মম ছবি তুলে ধরেছেন। তার সাহিত্য সত্তায় বৈজ্ঞানিক ভাবনা ও বাস্তবতার চেতনা বিশেষ তাৎপর্য লাভ করেছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি লেখকের ‘পরিস্থিতি’ নামক গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণী আহ্লাদির করুণ জীবনকাহিনি নিয়ে এ গল্পটি রচিত। এ গল্পের কেন্দ্রে আহ্লাদি অবস্থান করলেও গল্পটি আগাগোড়া আবর্তিত হয়েছে দুই পৌঢ়া বিধবা নারীকে কেন্দ্র করে। আহ্লাদির বাবার বোন পিসি আর মায়ের বোন মাসি অভাবের বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিরূপ পরিবেশ থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে, তাই এ গল্পকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দুর্ভিক্ষের গ্রাস থেকে নিজেদের বাঁচানোর বুদ্ধি থেকে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাসি-পিসি। নিজেদের জীবন বাঁচানো স্বপ্নে যুক্ত হয় আহ্লাদির আজ ও আগামীর জীবন। একারণে মাসি-পিসির সংগ্রাম শুধু নিজেদের জন্য নয়, আহ্লাদির জন্যও। যৌতুক লোভী স্বামীর হাত থেকে সন্তান সম্ভবা আহ্লাদিকে মানসিকভাবে শান্তিতে রাখা, গ্রামের প্রভাবশালীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা, বুদ্ধির খেলায় লালসায় উন্মত্ত সমাজপতিদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া এ গল্পের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

‘মাসি-পিসি’ গল্পটি পড়ার সময় যে দিকগুলো ভালো করে খেয়াল করতে হবে-

জীবন থেমে থাকার নয়। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জীবনের বেগ অধিক গতিময়, ঝঞ্ঝাটপূর্ণ ও বিপদসংকুল। ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি যেন তারই প্রকাশ। এ গল্পে জীবিকা নির্বাহে নারীদের কঠিন সংগ্রাম, বুদ্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে মানবপশুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া ও যৌতুকের লোভে নির্যাতিতা এ নারীর বেঁচে থাকার কাহিনি প্রকাশ পেয়েছে। গল্পটি সামাজিক প্রেক্ষাপটে লেখা। দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে নিমজ্জিত সমাজ, সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখ, সমাজপতিদের লোভী চেহারা এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে উল্লেখিত সমাজ বাস্তবতা, আহ্লাদির প্রতি জগুর দৃষ্টিভঙ্গি ও তাকে নির্যাতনের চিত্র, মাসি-পিসির সংগ্রামে নিয়োজিত হওয়ার বাস্তব ভাবনা ও তার বাস্তবায়ন, সম্পর্কের শুরুতে মাসি ও পিসির মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগার কারণ, দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতার বর্ণনা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। গোকুল, কৈলাশ ও কানায়ের মতো ব্যক্তিদের স্বার্থের দিকটি বিশ্লেষণ করতে হবে। আহ্লাদিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ক্ষেত্রে মাসি-পিসির দূরদর্শিতা, কৈলাসের চালাকি ধরতে পারা, রাত্রিতে যুদ্ধের সাজে সজাগ থাকা, শুধু বেঁচে থাকা নয়-বরং অর্থনৈতিক ভাবে টিকে থাকার যে বার্তা গল্পকার দিয়েছেন তা গভীরভাবে বুঝতে হবে।

অনুধাবন প্রশ্ন

১. কৈলাশ কেমন লোক ছিল?

২. মাসি-পিসি সলতের গতি ঠেকায় কেন?

৩. ‘অনেকটা পথ যেতে হবে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. ‘কথাবার্তা সে সব শুনতে পায় সহজেই’- ব্যাখ্যা কর।

৫. ‘খুনশুটি রাখো দিকি কৈলেশ তোমার, মোদ্দাকথাটাকি তাই কও’- ব্যাখ্যা কর।

৬. ‘মাসি-পিসির সঙ্গে পারা যাবে না’-কেন বলা হয়েছে?

৭. ‘হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৮. জগু আর সেই জগু নেই-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৯. নিজেরা যেচে এবার পাঠিয়ে দাও না মেয়াকে- কেন বলা হয়েছে?

১০. মাসি-পিসি আহ্লাদিকে স্বামীর বাড়িতে পাঠায় না কেন?

১১. বজ্জাত হোক, খুঁনে হোক জামাই তো- ব্যাখ্যা কর।

১২. বুড়ো রহমান ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায় কেন?

১৩. মামলা করলে বিপদে পরবে/ জেল হয়ে যাবে তোমাদের-কেন বলা হয়েছে?

১৪. মারা পড়বে তোমরা একেবারে-কেন বলা হয়েছে?

১৫. ‘আহ্লাদি একটা শব্দ করে অস্ফূট আর্তনাদের মতো’ - ব্যাখ্যা কর।

১৬. মাসি-পিসি গল্পে বর্ণিত দুর্ভিক্ষের বর্ণনা দাও।

১৭. দুর্ভিক্ষে মাসি-পিসির অবস্থা কেমন ছিল-বর্ণনা কর।

১৮. ‘মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি’ -ব্যাখ্যা কর।

১৯. মাসি-পিসি কীভাবে অভাব জয় করেছে/ জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছে?

২০. মাসি ও পিসি উভয়ের ভাব পূর্বে কেমন ছিল-বর্ণনা কর।

২১. সে মিল জমজমাট হয়ে উঠল আহ্লাদির ভার ঘাড়ে পরায়-ব্যাখ্যা কর।

২২. ‘কত দায়িত্ব তাদের, কত কাজ, কত ভাবনা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৩. ‘স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ভাবলেই আহ্লাদি আতঙ্কে পাশুটে মেরে যায়’-কেন?

২৪. ‘তবু মুফতে যা পাওয়া যায় তাতেই জগুর প্রবল লোভ’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২৫. ‘খালি ঘরে আহ্লাদিকে রেখে যাওয়ার সাহস হয় না মাসি-পিসির’-কেন?

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি : ইংরেজি

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি : ইংরেজি

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা

৫১তম বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি (২৭)

৫১তম বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি (২৭)

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের বাংলা রচনা

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের বাংলা রচনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম