সংকট ঘনীভূত হচ্ছে
Advertisement
মেজর (অব.) মনজুর কাদের
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা শহরে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এগুলো ‘নাশকতা’ (স্যাবোটাজ) কিনা উদ্বেগের সঙ্গে সে প্রশ্ন এখন করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৪ অক্টোবর ঢাকার মিরপুরে রূপনগর শিয়ালবাড়ী এলাকায় পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে আগুনে ১৬ জন নিহত হন। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় ১৬ অক্টোবর ১৬ কারখানার আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সাত তলার পুরো ভবনটিই জ্বলতে থাকে এবং সাত ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। ১৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনায় আমদানি করা যত পণ্য ছিল সব আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পরপর তিনটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর সারা দেশে পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে দেশের সব মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশকে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত
গত ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং প্রায় দেড়শ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই ছিল শিশু, আহত ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উদ্ধারকাজে নিজেকে নিয়োজিত করে কলেজশিক্ষক মৃত্যুবরণ করেন। উড্ডয়নের পর প্রশিক্ষণ বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে বলে দাবি করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিবৃতি দেয়।
চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার ৬ মাস আগের ঘটনা
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণে ১০ জনেরও বেশি নিহত হয় এবং আহত হন শতাধিক। হামলার পেছনে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ ছিল বলে প্রচার করা হয়।
চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরের ঘটনা
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০৩ সালে) জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) নামের দুটি জঙ্গি সংগঠন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় হয়। জোট সরকার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। তথাপি ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেট হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা হলে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হন এবং আহত হন ৭০ জনেরও বেশি। অভিযোগ করা হয় হুজি-বি জঙ্গিরা এতে জড়িত ছিল।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রাণঘাতী গ্রেনেড হামলা হলে ২৪ জন নিহত হন এবং আহত হন ৫০০ জনেরও বেশি। হামলায় ব্যবহৃত হয় সামরিক গ্রেডের গ্রেনেড। হুজি-বি জড়িত ছিল বলে অভিযোগ আনা হয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী একযোগে ৬৩ জেলায় প্রায় ৫০০টি ছোট বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এর দায় স্বীকার করে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। তাদের বার্তা ছিল ‘আমরা ইসলামি রাষ্ট্র চাই’। চারদলীয় জোট সরকারের শেষদিকে (২০০৬ সালে) জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম (বাংলাভাই) প্রমুখকে আটক করা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা, জোট সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় আন্দোলন ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১-এর ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১-এর ঘটনার পর আধিপত্যবাদী ভারত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার বসিয়ে দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাম্প কার্ড হিসাবে ব্যবহার করে। চারদলীয় জোটের নেতাকর্মীরা এক অবর্ণনীয় অত্যাচার, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। এমনকি অনেকের পরিবার-পরিজন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
অতীতেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল : আনোয়ার সাদাত প্রেসিডেন্ট জিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন
১৯৭৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের স্থান নিশ্চিত করার জন্য মিসর ও আরব লীগের সমর্থন পেতে কায়রো সফরে যান। বৈঠকের একপর্যায়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত জিয়াকে জানান, মিসরের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে জিয়াকে উৎখাত করে মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর মধ্য থেকে একটি গ্রুপ ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্রে কিছু নন-কমিশনড অফিসার জড়িয়ে পড়ে, যাদের বিরুদ্ধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সাদাত ইঙ্গিত দেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং লিবিয়া এ ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকতে পারে। ষড়যন্ত্রকারীরা ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী দিবস উদ্যাপনে জিয়া এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে বলে মিসরের প্রেসিডেন্ট অবহিত করেন।
২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরে জিয়া বিমানবাহিনী প্রধান, এয়ার ভাইস মার্শাল এজি মাহমুদকে একটি হাতে লেখা নোট পাঠিয়ে জানান, তিনি বিমানবাহিনী দিবস উদ্যাপনে যোগ দিতে পারবেন না।
জাপানি বিমান হাইজ্যাক
১৯৭৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাপান এয়ার লাইন্স (জাল) ফ্লাইট নম্বর ৪৭২ টোকিওতে যাওয়ার পথে বোম্বেতে (মুম্বাই) যাত্রাবিরতি করে। বিমানটি বোম্বে থেকে উড়াল দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই জাপানি রেড আর্মির (জেআরএ) হিদাকা কমান্ডো ইউনিটের ৫ জন ছিনতাইকারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, গ্রেনেড এবং প্লাস্টিক বিস্ফোরক নিয়ে সজ্জিত হয়ে এই ছিনতাই করে ফেলে। ছিনতাইকারীরা বিমানটিকে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য করে। জিয়া এজি মাহমুদকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেন, যারা জেআরএ এবং আরেকটি অতি বামপন্থি গোষ্ঠী ইস্ট এশিয়া অ্যান্টি-জাপান আর্মড ফ্রন্টের ৯ জন কারাবন্দি সদস্যের মুক্তি দাবি করে। অধিকন্তু, ছিনতাইকারীরা ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করে।
একই সময়ে অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর, যখন জেআরএ ছিনতাইকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল, তখন বগুড়া শহরে একটি সেনাবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুগত সৈনিক এবং অফিসাররা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চুয়াডাঙ্গায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা
১৯৭৮ সালে ন্যাপের (ভাসানী) চেয়ারম্যান মশিউর রহমান যাদু মিয়া জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দিয়ে জিয়াউর রহমানের ক্যাবিনেটে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদী নেতা এবং পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী দল গঠনের অন্যতম রূপকার। তাকে ঘায়েল করার জন্য শুরু হলো ষড়যন্ত্র।
১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার মদনা রেলস্টেশনের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ও একটি পণ্যবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বহু যাত্রী নিহত ও আহত হন, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় রেল দুর্ঘটনা হিসাবে উল্লেখযোগ্য। দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় যশোরে কর্মরত সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসার, কর্নেল সফি আহমদ চৌধুরীকে। তদন্ত করে জানানো হয়, পাশের একটি দেশের গোয়েন্দাদের চেষ্টায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, সিগন্যাল বিভ্রাট ও মানবিক ত্রুটির কারণে এটি সংঘটিত হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়। আমি (লেখক) তখন যশোর সেনানিবাসে কর্মরত, সামরিক শাসন চলছে। ঢাকায় ছুটিতে এসে সাংবাদিক গোলাম মহিউদ্দিন খানের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আমি বললাম, চলুন সচিবালয়ে যাই, যাদু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে আসি। আমরা উভয়েই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে গেলাম। যথারীতি আপ্যায়ন করা হলো আমাদের। চলে আসতে চাইলে যাদু ভাই ইঙ্গিত দিলেন বসতে। অফিস খালি হওয়ার পর আমরা তিনজন এবং যাদু ভাইয়ের সিকিউরিটি লিফ্ট দিয়ে নামছি। একপর্যায়ে তিনি জানালেন, তোরা যশোর সেনানিবাস থেকে যে তদন্ত করেছিস, সেই ফাইল গায়েব হয়ে গেছে, সচিবের কাছেও নেই। বুঝতে পারলাম যাদু ভাইয়ের প্রতিপক্ষরা দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
বর্তমান সরকারের আমল
ছাত্রদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতের মদদপুষ্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে ছাত্রনেতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। রাজনীতিবিমুখ দেশবাসী আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে রাজনীতিবিদদের দ্বারা ভেঙে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠিত হবে। কিন্তু সরকারের কেউ বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস মনে রাখেননি, এমনকি যারা তাদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।
লন্ডন বৈঠক
২০২৫ সালের ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সবাই ধরে নিয়েছেন যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বিজয়ী হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করবে।
এনসিপির অ্যাসিড টেস্ট গোপালগঞ্জ
লন্ডন বৈঠকের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য সমগ্র বাংলাদেশ সফরের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির একপর্যায়ে দলটি গোপালগঞ্জে কর্মসূচি ঘোষণা করে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার লটবহরকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কোনো শিক্ষা দিতে পারেনি তার প্রমাণ হয় গোপালগঞ্জে। ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচিতে এবং তাদের গাড়িবহরে হামলাকে ঘিরে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হন। দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে পুরোদস্তুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
সামনে আছে সমস্যা
লন্ডন বৈঠক বা এনসিপির বাংলাদেশ সফর সব সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না। বর্তমান সরকারের সামনে রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো কঠিন কর্মকাণ্ড। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্তরের পরিবর্তন হচ্ছে, কখনো লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন এবং কখনো আইনপ্রয়োগের ফাঁকফোকর দিয়ে, সব মিলিয়ে ‘ধারাবাহিক-নাশকতা’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার রূপরেখা উদ্ভাসিত হতে চলেছে।
অপরদিকে, ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যেসব শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা এই বিজয় ঠেকাতে উঠে-পড়ে লেগেছে। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অতীতের ঘটনাগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে নিয়ে আসছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরূপ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
সব ষড়যন্ত্র কাটিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন ‘উৎসবমুখর পরিবেশে’ কীভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মেজর (অব.) মনজুর কাদের : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য
