Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম নবদিগন্তের সূচনা করবে

Advertisement

Icon

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম নবদিগন্তের সূচনা করবে

Advertisement

একটি জাতির জীবনে তরুণ ও যুবসমাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে জাতি তার যুবসমাজকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না, সে জাতি কখনোই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই সব দেশের সরকারকেই ভাবতে হবে কীভাবে তার তরুণ ও যুবসমাজকে দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরি। আমাদের দেশে ‘সামার ভ্যাকেশন’ বা গ্রীষ্মকালীন ছুটির ব্যাপ্তি প্রায় দেড় মাস। এ সময় শিক্ষার্থীরা সাধারণত কর্মহীন জীবনযাপন করে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি এলেই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ক্যাম্পাস অনেকটাই নীরব এবং শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। লেখাপড়ার কঠিন দায়িত্ব থেকে শিক্ষার্থীরা সাময়িক মুক্তি লাভ করে। এ সময় তারা গ্রামের বাড়িতে অথবা অন্য কোথাও চলে যায়।

তারুণ্য মানেই অফুরন্ত জীবনীশক্তি ও সম্ভাবনাময় নতুন কিছু করার উদ্দীপনা। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যদি গ্রীষ্মকালীন ছুটির দিনগুলোতে স্বেচ্ছাশ্রম বা অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত করা যায়, তাহলে দেশ যেমন উপকৃত হবে, শিক্ষার্থীরাও নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারবে। শিক্ষাজীবনে ছুটি মানেই কেবল অফুরন্ত বিশ্রাম নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার এক সুবর্ণ সুযোগ। গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ ছুটির সময় শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাসরুমের বাইরে থাকে, তখন তাদের মেধা ও সময়কে যদি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়, তাহলে দেশ লাভবান হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও তাদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে পারবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দেশে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। মাদ্রাসা (আলিম পর্যায়) পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখের মতো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের বেশির ভাগই গ্রীষ্মের ছুটির সময় তেমন কোনো উৎপাদনমুখী কাজ করে না। ফলে একদিকে যেমন শ্রমশক্তির অপচয় ঘটে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও বাস্তব জীবন সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। অথচ এ সময় শিক্ষার্থীদের উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে; ছাত্রছাত্রীদের জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তারা যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অবহিত হতে না পারে, তাহলে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষা অসমাপ্ত থেকে যাবে। সামার ভ্যাকেশনের এ নাতিদীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতি গঠনে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, সে বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।

আমি আমার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে মনে করি, আমাদের এখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। সামার ভ্যাকেশন বা গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীল ও সমাজগঠনমূলক কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। সামার ভ্যাকেশনকে শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাধারণত ১ হাজার নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য এর থেকে কিছু নম্বর বরাদ্দ থাকতে পারে।

এমন অনেক দেশ আছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শ্রমে বড় বড় স্থাপনা নির্মিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা শ্রমিকের বিকল্প হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। আমাদের দেশেও গ্রীষ্মের ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনা নির্মাণকাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। রাস্তাঘাট নির্মাণ, খাল খনন, জলাশয় পরিষ্কারকরণ, ব্রিজ সংস্কার, বৃক্ষরোপণ, কৃষিকাজ ইত্যাদি নানা ধরনের কাজে শিক্ষার্থীরা সাধারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি কাজ করবে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা সামাজিক কুসংস্কার সম্পর্কে গ্রামীণ নারীদের অবহিত করবে। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ইত্যাদি সমাজবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে গ্রামীণ নারীদের সচতেন করে তুলবে। যৌতুক প্রথা ও বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর সে সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পারে। শিক্ষার্থীরা গ্রামীণ নারীদের সঙ্গে মিশলে তাদের সমস্যার বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে। অল্প কষ্টসাধ্য কাজে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করতে পারে; যারা কখনোই শহরের বাইরে যায়নি, তারাও এ কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। এ কাজের জন্য তাদের কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না। তবে কর্মস্থলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামান্য পকেট মানির ব্যবস্থা থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তারা এ পকেট মানি দিয়ে তাদের পড়াশোনার খরচ কিছুটা মেটাতে পারবে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ কাজে সুপারভাইস করবেন। শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে বিভক্ত করে একজন বা দুজন শিক্ষককে একটি দলের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের থাকা ও খাবাবের ব্যবস্থা করবেন।

ছুটির সময়ে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণ নজিরবিহীন ঘটনা নয়। অনেক দেশেই শিক্ষার্থীদের এভাবে দেশ গঠনের কাজে নিয়োজিত করা হয়। আমাদের দেশের একজন উচ্চশিক্ষিত ছাত্র বা ছাত্রী সাধারণ মানের কাজ করতে চায় না। প্রয়োজনে তারা বেকার থাকবে; কিন্তু সব ধরনের কাজ তারা করতে চায় না। এটি তাদের আত্মমর্যাদায় লাগে। কিন্তু বাইরের দুনিয়ায় যে কোনো কাজকেই সম্মানজনক বলে মনে করা হয়। আমাদের দেশের একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক বা যুবতী নিজ দেশে সাধারণ মানের কোনো কাজ করতে না চাইলেও তারা বিদেশে গিয়ে সাধারণ কাজ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। কারণ, উন্নত দেশগুলোতে শ্রমের মর্যাদা দেওয়া হয়। সৎভাবে উপার্জনশীল কোনো কাজকেই তারা ছোট মনে করেন না।

জনসংখ্যাধিক্যের কারণে আমাদের মতো দেশ একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না; আর শিক্ষাব্যবস্থাও কর্মমুখী নয়। ফলে উচ্চশিক্ষা লাভ করার পরও একজন শিক্ষার্থী তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষাজীবন থেকেই তারা অনুধাবন করতে পারে, কোনো কাজই ছোট নয়। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাটাই বিবেচ্য বিষয়, কাজের ধরন নয়। বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের সামার ভ্যাকেশন বা শিক্ষাবর্ষের নির্দিষ্ট সময়ে স্বেচ্ছাশ্রমে উৎসাহিত করা হয়। বিভিন্ন দেশে এ কার্যক্রম নানা নামে অভিহিত করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এ ধরনের কার্যক্রমকে কমিউনিটি সার্ভিস বা কমিউনিটি লার্নিং বলা হয়। সেখানে একজন শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষে ৪০ থেকে ১০০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রম করা বাধ্যতামূলক। ছুটির সময় তারা ফুড ব্যাংক বা লঙ্গরখানায় খাবার সরবরাহ করে। বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বয়স্কদের সেবা দান করে। দুস্থদের জন্য ঘর তৈরি করে। পার্কের আবর্জনা পরিষ্কার করে। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের কাজকে ন্যাশনাল সিটিজেন সার্ভিস বলা হয়। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশেষ কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ কর্মসূচিকে বংসা এক্টিভিটিজ এবং জাপানে বলা হয় ভলেন্টিয়ার ওয়ার্ক। শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বয়স্কদের প্রযুক্তি শেখানোর ব্যাপারে সাহায্য করে। উত্তর কোরিয়াতেও শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বড় বড় রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো সফলভাবে নির্মাণের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভারতে শিক্ষার্থীরা ছুটির সময় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প করে। বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের মতো কাজও তারা করে থাকে। শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কাজের ধরন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের কাজের হিসাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছ থেকে ‘লগ বই’য়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনে। এটি পরবর্তী সময়ে তাদের উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের ক্ষেত্রে বড় ধরনরে ভূমিকা পালন করে থাকে।

উন্নত দেশ তো বটেই, উন্নয়নশীল অনেক দেশেও শিক্ষার্থীদের ছুটিকালীন জাতি গঠনে কাজে লাগানো হয়। একটি সূত্রমতে, অন্তত ১৫০টি দেশে কোনো না কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ছুটিকালীন দেশ গঠনের কাজে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে এখনো এ ব্যাপারে পরিকল্পিতভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি এবং অবিলম্বে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা চিন্তা করেছি। এ বিষয়ে আমি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সদয় বিবেচনার জন্য এখানে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করছি-

প্রাথমিক পর্যায়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) মে-জুন মাসে (ছুটির সময়ে) (ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, (খ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, (গ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, (ঘ) সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, (ঙ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং (চ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে মোটামুটিভাবে দেশের সব অঞ্চলে এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে। পরবর্তী সময়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লিখিত স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপাতত নিম্নলিখিত কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে।

১. শিক্ষামন্ত্রী/শিক্ষা উপদেষ্টা সভাপতি

২. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান সদস্য

৩. উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

৪. উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

৫. উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

৬. উপাচার্য, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

৭. উপাচার্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

৮. উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

৯. শিক্ষা সচিব সদস্য-সচিব

এ কমিটি শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্তে উপযুক্ত নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং যথাসময়ে তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ছাত্রছাত্রীদের কোর্স-কারিকুলামে এ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং কোর্স সমাপনী পরীক্ষায় তারা এজন্য বিশেষ কিছু সুবিধা লাভ করবে।

আমাদের দেশে যারা গতানুগতিক শিক্ষা লাভ করে, তাদের মধ্যে এক ধরনের আত্মঅহমিকা তৈরি হয়। তারা সাধারণত খেটে খাওয়া মানুষের সংস্পর্শে আসতে চায় না। এ হীনম্মন্যতা দূর করার ক্ষেত্রে ছুটিকালীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত করার উল্লিখিত প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে; যারা এসব সমাজকর্মে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেবে, তাদের জন্য স্পেশাল বৃত্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের স্বেচ্ছাশ্রমে আত্মনিয়োগে উৎসাহী হয়ে ওঠে। এটি করা গেলে ভবিষ্যতে তারা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে এবং তারা সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারবে। বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমি এ বিষয়টির প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী এবং অংশীজনদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : প্রফেসর ইমেরিটাস; সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক রাষ্ট্রদূত

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম