Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

হালফিল বয়ান

সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা

Advertisement

Icon

ড. মাহফুজ পারভেজ

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা

Advertisement

আমাদের দেশে রাজনীতিতে একটা চিরকালীন নিয়ম আছে-নিজের দলের কেউ ধরা পড়লে সে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’, আর প্রতিপক্ষের কেউ ধরা পড়লে সে ‘দেশের শত্রু। এ সহজ হিসাবটা এতদিন বেশ চলে আসছিল; কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট আর ভাঙচুরের ঘটনার পর সেই পুরোনো হিসাবটা একটু এলোমেলো হয়ে গেল। কারণ এবার ধরা পড়লেন ঘরের লোক। অভিযোগ ও প্রমাণ এক বিষয় নয়। তবু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কারণে একজন সংসদ-সদস্যকে পদত্যাগ করতে হলো। মে মাসে শপথ, অক্টোবরের প্রথম দিনে বিদায়। মাঝখানে মাত্র পাঁচ মাস। এমন দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বিরল অধ্যায়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সচরাচর যা ঘটে, সেটা হলো-নিজের দলের কেউ অভিযুক্ত হলে প্রথমে অস্বীকার, তারপর সময়ক্ষেপণ, তারপর ‘দলীয় শৃঙ্খলা’ নামে বিষয়টি চাপা। এটাই আমাদের চেনা অভ্যাস। এবার সেটা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরপরই নির্দেশ দিয়েছিলেন-অপরাধীকে তার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিচার করা হবে না, অপরাধী হিসাবেই দেখা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, দুর্নীতি আর সন্ত্রাসে আপস করা হবে না। সেই কথার একটা বাস্তব পরীক্ষায় সরকার কথা রাখার চেষ্টা করেছে। ঘরের লোককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ছোট ব্যাপার নয়। কারণ আমাদের দেশে ক্ষমতায় এসে নিজের লোককে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো কতটা কঠিন, সেটা সবাই জানি। ক্ষমতায় আসা কঠিন, কিন্তু ক্ষমতায় থেকে নিজের লোকের দিকে আয়না ধরা সম্ভবত তার চেয়েও কঠিন। সরকার সেই কঠিন কাজটা করার সাহস দেখিয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে।

সরকার ক্ষমতায় এসেই স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছিল, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। শব্দটা আমাদের রাজনীতিতে বহুবার শোনা গেছে। নির্বাচনের আগে, সংকটের সময়ে, সংবাদ সম্মেলনে। কিন্তু শব্দটা আসল অর্থ পায় তখন, যখন ক্ষমতাসীন দলের নিজের লোকের ক্ষেত্রেও সেটা প্রয়োগ হয়। জিরো টলারেন্স মানে শুধু রাস্তায় অপরাধী ধরপাকড় নয়। এর আসল অর্থ হলো-যে রাজনৈতিক ছাতার নিচেই অপরাধী থাকুক, সেই ছাতা সরিয়ে দেওয়া। অপরাধের পরিকল্পনা কে করেছিল? কারা হামলা চালিয়েছিল? কারা টাকা বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল? কারা জমি দখলের সুবিধা নিতে চেয়েছিল? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করা হলেই ‘জিরো টলারেন্স’ একটা সুন্দর পোস্টারের মতো দেওয়ালে শোভা না পেয়ে বাস্তব চিত্র বদলে দেবে।

কিন্তু সন্ত্রাসকবলিত সংকুল পরিস্থিতি খুব সহজে বদলাবে বলে মনে করার কারণ নেই। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঠিক পরের রাতেই, ২৬ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ প্রকল্পে প্রায় ৫০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি ৫০টির মতো গুলি ছোড়া হয়, রামদা-ছোরা নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, এ পর্যন্ত সাতজন গ্রেফতার হয়েছেন-যাদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলও আছেন। অর্থাৎ, এখানেও ক্ষমতা, প্রভাব আর সংগঠিত শক্তির ছায়া স্পষ্ট।

শুধু দুটি ঘটনা নয়, বাংলাদেশের কেন্দ্র ও প্রান্তে প্রান্তে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা অহরহ ঘটছে। কিন্তু বেশিরভাগ ঘটনার ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী বা পৃষ্ঠপোষকরা আড়ালে থেকে যান। অথচ প্রকৃত জিরো টলারেন্সের অর্থ হলো-অপরাধী ও তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করা, যিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যিনি অর্থ দিয়েছেন, যিনি জমি বা সুবিধার লোভে হামলাগুলোকে সমর্থন দিয়েছেন-সবাইকে আইনের আওতায় আনা। কিছু পদত্যাগ ও শাস্তি ভালো দৃষ্টান্ত। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো এ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা সামনে এনেছে যে, ক্ষমতার নামে যা খুশি করার সুযোগ নেই।

তাছাড়া, দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর সেই বার্তাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়কে বিবেচনার বাইরে রেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুগান্তরের প্রতিবেদনে যে কঠোর সাংগঠনিক অবস্থানের কথা এসেছে, তার মূল বক্তব্য হলো-চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো অপরাধে কেউ জড়িয়ে পড়লে তার পদ-পদবি দিয়ে বিষয়টি বিচার করা হবে না। এ নীতির বাস্তব প্রয়োগই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘোষণা করা সহজ হলেও নিজের দলের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই নীতি প্রয়োগ করাই প্রকৃত পরীক্ষা।

কারণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ-বাণিজ্য, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান হলে তার কার্যকারিতা সীমিত। এটি কার্যকর করতে হলে কয়েকটি বিষয় একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথমত, অভিযোগ গ্রহণের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগকারী ব্যক্তি বিরোধী দলের, সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক কিংবা ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-পরিচয় যেন তদন্তের মান নির্ধারণ না করে।

দ্বিতীয়ত, তদন্তের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জনপ্রতিনিধি বা দলীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার রাজনৈতিক অবস্থান যেন তদন্তকারী সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার না করে।

তৃতীয়ত, অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে কাউকে অপরাধী না বানিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে তদন্ত যেন থেমেও না যায়।

চতুর্থত, দলীয় শাস্তি এবং রাষ্ট্রীয় আইনি ব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় থাকতে হবে। কোনো কর্মকাণ্ড শুধু দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হতে পারে; কিন্তু ফৌজদারি অপরাধের উপাদান থাকলে রাষ্ট্রীয় আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলবে।

এ ভারসাম্যই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জিরো টলারেন্স নীতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এজন্য নিয়োগই শেষ কথা নয়, নিয়োগের পর নজরদারিও প্রয়োজন। কারণ, একটি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সাংবিধানিক, প্রশাসনিক, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়। এসব নিয়োগে যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনস্বার্থ যদি প্রধান বিবেচনা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়; কিন্তু নিয়োগ যদি রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা, আঞ্চলিকতা, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা আর্থিক লেনদেনের ওপর নির্ভর করে-তাহলে সেই নিয়োগ একসময় সরকারের জন্যই দায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষ করে দলীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জেলা পরিষদ বা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিংবা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা যদি নিজেদের অবস্থানকে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন, তাহলে ক্ষতি শুধু ব্যক্তির হয় না; প্রতিষ্ঠানের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। তাই নিয়োগ দেওয়া যেমন সরকারের অধিকার, তেমনই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। এজন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠান বা এলাকার দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি সেখানে নিজের অনুসারীদের একটি বলয় তৈরি করছেন কি না, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদে প্রভাব বিস্তার করছেন কি না, নিয়োগ ও ঠিকাদারি প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম হচ্ছে কি না, সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুবিধা বা অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

কারণ ক্ষমতা সাধারণত একদিনে দুর্নীতিগ্রস্ত হয় না। প্রথমে আসে ছোটখাটো ছাড়, তারপর দলীয় পরিচয়ে অপরাধকে উপেক্ষা, এরপর আসে প্রভাবের বলয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই বলয় রাষ্ট্র ও দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ কম নেই, যেখানে কোনো সরকারের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমিতসংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তি বা স্থানীয় ক্ষমতাকেন্দ্রের কর্মকাণ্ডে। একটি সরকার নিজেকে যতই সংস্কারমুখী, স্বচ্ছ বা জনবান্ধব হিসাবে উপস্থাপন করুক, তার আশপাশে যদি চাঁদাবাজি, দখল, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ক্রমাগত জমতে থাকে, শেষ পর্যন্ত সেই অভিযোগের রাজনৈতিক দায় সরকারকেই বহন করতে হয়।

এ কারণেই জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘গডফাদার’ তৈরি হওয়ার আগেই ক্ষমতার স্থানীয় বলয়গুলোর ওপর নজরদারি প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। আজ যে ব্যক্তি দলীয় পরিচয়ের কারণে প্রভাবশালী ও পদাধিকারী, কাল তার সেই পরিচয় না-ও থাকতে পারে। কিন্তু তার তৈরি করা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় প্রভাবের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে তা শুধু একজন উপাচার্যের মেয়াদে শেষ হয় না; একটি স্থানীয় প্রশাসনে নিয়োগ-বাণিজ্য শুরু হলে তার প্রভাব শুধু একটি নিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একইভাবে কোনো এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি বা দখলের সংস্কৃতি তৈরি হলে সেটি ভাঙতে দীর্ঘ সময় লাগে।

তাই অপরাধ হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের পরিবেশ তৈরির আগেই প্রতিরোধমূলক নজরদারি জরুরি। ‘আমাদের সরকার’ মানে ‘যা ইচ্ছা করা যাবে’ এমন নয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন-‘এবার আমাদের সরকার, তাই আমরা যা খুশি করতে পারি’-তাহলে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের অর্থই ক্ষয়ে যায়। সরকার কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকে পাওয়া একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই দলের সর্বস্তরে এমন একটি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে ‘আমাদের লোক’ পরিচয় কাউকে আইনের বাইরে নয়, বরং আরও বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখবে। কারণ একজন সাধারণ মানুষের অপরাধের দায় তার ব্যক্তিগত। কিন্তু একজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা যখন একই কাজ করেন, তখন তার ব্যক্তিগত দায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়ও যুক্ত হয়। তিনি শুধু নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করেন না; দলের নাম ব্যবহার করে থাকলে দলেরও ক্ষতি করেন এবং সরকারি পদে থাকলে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন করেন।

‘জিরো টলারেন্স’ কথাটির প্রকৃত পরীক্ষাকালে আয়না শুধু বিরোধীদের সামনে ধরলে সফলতা আসে না। সেই আয়না নিজেদের দিকেও ধরতে হয়। কে মন্ত্রী, কে এমপি, কে দলের নেতা, কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি-এসব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যদি আচরণের মানদণ্ড নির্ধারিত হয়, তাহলেই শৃঙ্খলা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। শেষ পর্যন্ত একটি সরকারের স্বচ্ছতা শুধু তার ঘোষণায় নয়, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা কতটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে-সেখানেই তার বাস্তব পরীক্ষা।

ড. মাহফুজ পারভেজ : সিনিয়র প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

হালফিল বয়ান সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা

সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা

ভারতের নির্বাচন কমিশনের কেলেঙ্কারি ফাঁস

ভারতের নির্বাচন কমিশনের কেলেঙ্কারি ফাঁস

বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং আস্থার সংকট

বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং আস্থার সংকট

উৎপাদন সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে

উৎপাদন সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম