Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

সাক্ষাৎকার

মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা: অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার

Advertisement

Icon

খালিদ বিন আনিস

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা: অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার

অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার।

Advertisement

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শিশু থেকে শুরু করে নারী কিংবা শিক্ষার্থী-কেউই রেহাই পাচ্ছে না অপরাধীদের হাত থেকে। শুধু অপরাধের সংখ্যাই বাড়ছে না, বরং অপরাধের ধরন ও হিংস্রতার মাত্রায় দেখা দিচ্ছে নতুন ও রুগ্ণ মনস্তাত্ত্বিক উপসর্গ। স্বজন হত্যা, সামাজিক আস্থার চরম সংকট, কিশোর অপরাধ এবং মাদকাসক্তি সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে এক গভীর অস্থিরতার দিকে। সামাজিক এ অবক্ষয়, জনমনে সৃষ্ট তীব্র আতঙ্ক বা ‘মাস এনজাইটি’, অপরাধের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণ এবং শিশু-কিশোরদের আচরণগত সংকট নিয়ে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাইকিয়াট্রিস্ট, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খালিদ বিন আনিস

যুগান্তর : সম্প্রতি দেশে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও রাহাজানির মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডসহ বেশকিছু নৃশংস ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসাবে আপনি কি মনে করেন, এসব ঘটনা দেশবাসীর মনে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা বা সামষ্টিক মানসিক ভীতি (মাস এনজাইটি) তৈরি করছে?

ডা. সাইফুন নাহার : দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তো ফেলছেই, আপনি যদি স্বল্পমেয়াদেও চিন্তা করেন-আমাদের প্রত্যেক মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এনজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিচ্ছে। সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে নিজেদের মানবিকতা ও নীতি-নৈতিকতার জায়গা থেকে এক ধরনের অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার হুমকিতে ভুগছি। আমার নিজের সন্তানও ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। প্রতিমুহূর্তেই যখন এসব বার্তা বা খবর আমাদের কাছে আসে, আমরা নিজেরাও সবসময় একটা হুমকির মধ্যে থাকি, কখন কার সন্তানের ওপর আঘাত আসে। আমরা কাজে মন দিতে পারি না, ঘুমের সমস্যা হয়। এমনকি শারীরিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একজন সাইকিয়াট্রিস্ট হিসাবে আমার নিজের মধ্যেই যদি এ প্রতিক্রিয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তা হওয়াটা স্বাভাবিক।

আমরা কেউ কিন্তু চাই না এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটুক; সবাই চাই এগুলো কমে যাক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশে অপরাধপ্রবণতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এটার শেষ কোথায়, তা আমরা এখনো জানি না। আর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা যেটা বলছেন, যা কয়েক মাস বা কয়েক বছরব্যাপীও স্থায়ী হতে পারে। যেসব পরিবার সরাসরি এটিতে আক্রান্ত হয়, তাদের মধ্যে উদ্বেগজনিত রোগ, একিউট স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), ঘুমের সমস্যা, বিষণ্নতা দেখা দেয়। আর যারা এসবের প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা পরোক্ষভাবে সমাজের নাগরিক বা আত্মীয়স্বজন, তাদের মধ্যেও এগুলোর বিরূপ প্রভাব বিরাজ করে। অনেকে এসব থেকে বের হতে পারেন না, তখন তাদের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে যায়। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যায়, পারস্পরিক আস্থার বিষয়গুলো চলে আসে। এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে একপর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা আমরা কেউ চাই না। আবার প্রতিনিয়ত যারা বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়, তারা একপর্যায়ে নিজেরাও আগ্রাসী হয়ে যায় এবং অন্য কাউকে নির্যাতন ও নিপীড়ন করতে থাকে। এভাবেই অপরাধপ্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে।

যুগান্তর : আপনি পারস্পরিক অবিশ্বাসের কথা বললেন। অতিমাত্রায় ছিনতাই, রাহাজানি বা নৃশংস ঘটনার কারণে সামাজিক যে আস্থার সংকট (ক্রাইসিস অব সোশ্যাল ট্রাস্ট) তৈরি হচ্ছে এবং মানুষ যেভাবে আরও বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে-এ অবস্থা সমাজব্যবস্থার জন্য কতটা ক্ষতিকর?

ডা. সাইফুন নাহার : শুধু যে আস্থার সংকট তা নয়, মানুষ কিন্তু অ্যাগ্রেসিভও হয়ে যাচ্ছে। যখন ট্রাস্ট ইস্যুজ থাকে, তখন মানুষের মধ্যে হতাশা থেকে আগ্রাসনও বাড়তে থাকে। শুধু যে মানুষ ঘরে বন্দি থাকে বা পরিহারমূলক আচরণ (অ্যাভোয়ডেন্স বিহেভিয়ার) প্রকাশ করে তা নয়; তারা যখন অন্য মানুষের ওপর নির্ভর বা বিশ্বাস করতে পারে না, তখন কিছুটা আক্রমণাত্মক আচরণ তাদের মধ্যেও তৈরি হয়।

যুগান্তর : অপরাধের মাত্রা ও ধরনও তো পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা, কিংবা আট মাসের ভাতিজিকে আছাড় মেরে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব নৃশংসতার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো কী?

ডা. সাইফুন নাহার : এগুলো কিছু কিন্তু মানসিক রোগের জন্য হয়। যেমন আপনারা প্রায়ই রিপোর্ট করেন, মায়েরা সন্তানকে খুন করে ফেলছেন। পোস্টপার্টাম সাইকোসিস বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের একটা পর্যায়ে মায়েরা নিজেদের সন্তানকে মেরে ফেলে, যেটাকে আমরা ইনফ্যান্টিসাইড বলি। জন্মের পর এক বছর বয়স পর্যন্ত এটি বেশি দেখা যায়। এছাড়া সিজোফ্রেনিয়া, ডিলিউশনাল ডিসঅর্ডার বা মাদকের কারণে সৃষ্ট মনোবিকার বা সাইকোসিসে আক্রান্ত রোগীরা যখন মনে করে অন্য কোনো মানুষ তার ক্ষতি করবে বা সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ, তখন তারা তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দেয়। গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীরা অনেক সময় অন্যকে মেরে ফেলে।

দ্বিতীয়ত, সাইকোপ্যাথ বা অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত একটি গ্রুপ আছে, যারা সমাজের রীতিনীতি বা আইনকানুন পরোয়া করে না; তারা অন্যকে খুন করতে পারে। তৃতীয়ত, মাদকের প্রভাবে অ্যালকোহল বা অন্যান্য নেশাদ্রব্য যখন মানুষের জাজমেন্ট নষ্ট করে দেয়, তখন মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ তৈরি হয়। অর্থাৎ নিজের আচরণের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না; ফলে যে কাজ করা উচিত নয়, তা-ই করে ফেলে-যেমন খুন, অ্যাবিউজ, ছিনতাই বা চুরি। রামিসা হত্যা বা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্ত যে ছেলেরা এসব নৃশংসতা ঘটিয়েছে, খেয়াল করলে দেখবেন, তারা সবাই মাদকে আসক্ত ছিল। অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের সংকট, মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ-সবকিছু মিলেই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ঘটে।

যুগান্তর : অপ্রতিমের প্রসঙ্গে বয়ঃসন্ধিকালের শিশুদের মানসিক পরিবর্তন নিয়ে কথা উঠছিল। এ বিষয়ে আমাদের অভিভাবকরা কতটা সচেতন?

ডা. সাইফুন নাহার : সচেতন হওয়ার পরও আজকাল মা-বাবা উভয়েই কর্মজীবী হওয়ার কারণে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এখন কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেশি। আগে যৌথ পরিবারে নানি-দাদি বা অন্যরা থাকতেন, কিন্তু এখন চিত্র বদলে গেছে। মা-বাবা দুজনই কর্মজীবী থাকায় বাচ্চাকে দেখে রাখার কেউ থাকে না।

যুগান্তর : এ সামাজিক অস্থিরতার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ কি আপনি নির্দেশ করবেন?

ডা. সাইফুন নাহার : সুনির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ নয়, অনেক কারণ সম্মিলিতভাবে কাজ করে। মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও নৈতিক বিকাশের জায়গাটিতে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ যখন দেখে, অন্য একজন অন্যায়, দুর্নীতি বা অনিয়ম করে কম সময়ে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছে, তখন তার মধ্যে এক ধরনের ‘অবজারভেশনাল লার্নিং’ হয়। আবার কেউ অপরাধ করার পর যদি শাস্তি না হয়, তাহলেও মানুষের লার্নিং হয়, কিছুই হবে না; কিছুদিন মাতামাতি হয়ে ধামাচাপা পড়ে যাবে।

পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা বা প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মোবাইলের অপব্যবহার, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলেও এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদকের প্রাপ্যতা এনশিওর হচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনলাইন গেমিং অ্যাডিকশন এবং অনলাইন গ্যাম্বলিং বা জুয়ার আসক্তি এটি তরুণ প্রজন্মকে শেষ করে দিচ্ছে। অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ের ফলে কেবল ফাংশনাল ইমপেয়ারমেন্ট নয়, মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন (স্ট্রাকচারাল ড্যামেজ) ঘটে। ফলে কিশোর-কিশোরীরা অল্পতেই রেগে যাচ্ছে, ভাঙচুর করছে, মা-বাবার গায়ে হাত তুলছে এবং কোনো অপরাধবোধ ছাড়াই বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

যুগান্তর : জনবহুল আমাদের এ দেশে টিকে থাকার যে ‘সারভাইভাল মোড’ বা তীব্র প্রতিযোগিতা-এটিও কি এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে?

ডা. সাইফুন নাহার : সারভাইভাল মোড তো আছেই, তবে পেটে খাবার না থাকলে নীতি-নৈতিকতা কাজ না-ও করতে পারে; বাঁচতে কুকুরের কাছ থেকে খাবার কেড়ে খাওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে পারে; কিন্তু আমাদের দেশে এখন তো আর ওরকম দুর্ভিক্ষ বা চরম খাদ্যাভাব চলছে না যে, খাবারের অভাবে অন্যকে খুন করতে হবে। বড় বড় যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর পেছনে খাদ্যের কোনো সংকট নেই।

এটি আসলে এক ধরনের অসুস্থ ও বিকৃত মানসিকতা। অন্যকে দমন করে, সরিয়ে দিয়ে, ঠকিয়ে নিজের সুপ্ত কামনা-বাসনা বা স্বপ্নপূরণ করার যে মানসিকতা, তা এক ধরনের অসুস্থতা। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।

যুগান্তর : সামাজিক এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ বা পরিত্রাণের উপায় কী? আর এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কী ধরনের পদক্ষেপ বা সহযোগিতা করতে পারে?

অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার : এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আসলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- প্রতিটি পর্যায় থেকেই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, যারা মানসিক রোগে আক্রান্ত, তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে সুস্থ করে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিত্বের সংকট বা বিকৃত মানসিকতার পেছনে যে বিষয়গুলো কাজ করে, সেখানে সবার ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দর ‘প্যারেন্টিং’ বা সঠিক অভিভাবকত্ব অত্যন্ত জরুরি। পিতামাতা ছোটবেলা থেকে সন্তানকে কীভাবে নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে বড় করছেন এবং তারা নিজেরা সন্তানকে কী আচরণ দেখাচ্ছেন-তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকরা নিজেরা অসৎ উপায়ে চললে সন্তানরা তা দেখে শিখবে; মুখে যতই ভালো কথা বলা হোক না কেন, সন্তানরা যা দেখে, তা-ই লালন করে। ফলে প্যারেন্টিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রকে অপরাধের চক্রগুলো ভেঙে দিতে হবে। অপরাধীরা যে চক্র বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত করে, সেটি না ভাঙতে পারলে কেবল আলোচনার মাধ্যমে কোনো ফল আসবে না।

আর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ভূমিকার কথা বলতে গেলে, আমরা মানসিক রোগীদের আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে পারি। সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সঠিক উপায়ে অভিভাবকত্ব এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে আমরা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও পরামর্শমূলক কর্মসূচি নিতে পারি। তবে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি মানুষকে নিজ নিজ জীবনে তা প্রয়োগ করার ইচ্ছা থাকতে হবে। অপরাধপ্রবণতা হ্রাস বা এ মানসিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার ও জনগণকে সমষ্টিগতভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

পাশাপাশি সরকারের গৃহীত ‘স্কুল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বিশেষ অবদান রাখতে পারে। আমরা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সেবা প্রদানে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করতে পারি।

যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. সাইফুন নাহার : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম