Logo
Logo
×

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র

১৯৪৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেমন ছিল ক্ষমতাসীনদের ফল?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

১৯৪৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেমন ছিল ক্ষমতাসীনদের ফল?

ছবি: গেটি ইমেজেস

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে মাত্র দুবার প্রতিনিধি পরিষদে আসন বাড়াতে পেরেছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল। বাকি ১৮ বারই আসন হারিয়েছে তারা। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও এই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ধরাশায়ী হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।

প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদি শাসনামলের মাঝামাঝি সময়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট দেন মার্কিন নাগরিকরা। 

আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে জয় পাওয়ায় আগামী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। 

ব্যালটে প্রেসিডেন্টের নাম না থাকলেও এই নির্বাচনকে তার শাসনামলের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয়। আর প্রায় প্রতিবারই এর খেসারত দিতে হয় ক্ষমতাসীন দলকে।

১৯৪৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮টিতেই হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা দল প্রতিনিধি পরিষদের আসন হারিয়েছে। প্রতিবার গড়ে ২৬টি আসন হারিয়েছে দলটি। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানীরা এ প্রবণতাকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পেনাল্টি’ বা ‘মিডটার্ম পেনাল্টি’ বলে অভিহিত করেন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারায়। কারণ, এ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।


প্রতিনিধি পরিষদ: ২০ নির্বাচনে ১৮ বার আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দল

১৯৪৬ সাল থেকে জো বাইডেনের শাসনামল পর্যন্ত প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে কতটি আসন পেয়েছে বা হারিয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে আলজাজিরার প্রতিবেদনে।

এ সময়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্টদের দল। মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের গড়ে প্রায় ২৯টি আসন হারাতে হয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের দলের গড় আসন হারানোর সংখ্যা প্রায় ২৩টি।

সবচেয়ে বড় পরাজয় আসে ২০১০ সালে। বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর পর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৬৪টি আসন হারায়। এর ফলে কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রিপাবলিকানদের হাতে।

এর আগে ১৯৪৬ সালে হ্যারি এস ট্রুম্যানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটরা ৫৬টি আসন হারিয়েছিল। ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটনের শাসনামলে দলটি হারায় ৫৪টি আসন। দুই নির্বাচনেই প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায় ডেমোক্রেটিক পার্টি।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৫৮ সালে ডুইট ডি আইজেনহাওয়ারের শাসনামলে ৫০টি এবং ১৯৭৪ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের শাসনামলে ৪৮টি আসন হারানো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ৪২টি আসন হারায় এবং প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

বড় ব্যবধানে আসন হারানোর কারণে অনেক সময় কক্ষটির সংখ্যাগরিষ্ঠতাও হাতছাড়া হয় ক্ষমতাসীন দলের। ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে চলে যায়।


সিনেট: ২০ নির্বাচনে ১৩ বার আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দল

১৯৪৬ সালের পর অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৩ বারই সিনেটে আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল। তবে মাত্র ছয়বার কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা। নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০৬ ও ২০১৪ সালে।

প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে সিনেটের নির্বাচনের একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে প্রতি দুই বছর পরপর নির্বাচন হলেও সিনেটের ১০০টি আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে প্রতি নির্বাচনে ভোট হয়। কারণ, সিনেটররা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং সব আসনে একই সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। ফলে জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কোন কোন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, সেটিও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

এ সময়ে সিনেটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল আইজেনহাওয়ারের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানরা। ১৯৫৮ সালের নির্বাচনে তারা ১৩টি আসন হারায়। ১৯৪৬ সালে ট্রুম্যানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটরা ১২টি এবং ২০১৪ সালে ওবামার নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটরা ৯টি আসন হারায়। এর ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রিপাবলিকানদের হাতে।

কখনো কখনো কংগ্রেসের দুই কক্ষে নির্বাচনের ফলাফল হয়েছে বিপরীতমুখী। ১৯৮২ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৬টি আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়ায়। একইভাবে ২০২২ সালে বাইডেনের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।

এসব ফলাফল দেখায়, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভ কংগ্রেসের দুই কক্ষে সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। সিনেটের নির্বাচনী মানচিত্র অনুকূলে থাকলে কোনো দল সেখানে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, অথচ প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে পরাজিত হতে পারে।


প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অর্থ কী?

আসন হারানো এবং কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো এক বিষয় নয়। ১৯৬৬ সালে লিন্ডন বি জনসনের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ৪৭টি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আবার এর ২০ বছর পর ১৯৮৬ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র চারটি আসন হারিয়েও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ওই নির্বাচনে সিনেটে দলটি আটটি আসন হারিয়েছিল।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে কোন দল আইন প্রণয়নের কর্মসূচি ঠিক করবে এবং কোন বিল পাশ হবে। কোনো বিল প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বা ভেটোর জন্য পাঠানোর আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই পাশ হতে হয়। ফলে যেকোনো একটি কক্ষে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা আটকে দেওয়া সম্ভব।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কোনো দল প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারে এবং অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারে। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে আজীবন দায়িত্ব পালনকারী ফেডারেল বিচারকরাও রয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন


আরও পড়ুন

সম্পর্কিত খবর

মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি

মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনি

শি-পুতিন-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নভেম্বরেই

শি-পুতিন-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নভেম্বরেই

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া কে এই ফিলিস্তিনি নারী?

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া কে এই ফিলিস্তিনি নারী?

আরও পড়ুন

১৯৪৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেমন ছিল ক্ষমতাসীনদের ফল?

১৯৪৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেমন ছিল ক্ষমতাসীনদের ফল?

মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি

মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে সতর্ক করলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা

শি-পুতিন-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নভেম্বরেই

শি-পুতিন-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নভেম্বরেই

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম