Logo
Logo
×

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা কমানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এ ঘোষণা দেন নিউসম। নৈতিকতা, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিপুল ব্যয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় মানুষের ভুলের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এক খোলা চিঠিতে নিউসম বলেন, ‘আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি, কারণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রীয়ভাবে কাউকে হত্যা করা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি আমাদের বিচারব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং আমাদের প্রত্যেকের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।’

এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। যদিও অঙ্গরাজ্যটিতে গত ২০ বছরে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি জনসমর্থন ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এখনো দেশটির অধিকাংশ মানুষ এ শাস্তির পক্ষে। গত আগস্টে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। তবে প্রায় ৭৩ শতাংশ মনে করেন, নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের মামলায় দীর্ঘ ও জটিল আইনি আপিল প্রক্রিয়া থাকায় অনেক বন্দির ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত সাজা কার্যকর হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও আইনত এ শাস্তির বিধান থাকলেও কার্যত তা প্রয়োগ করা হয় না।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুতর ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত এপ্রিলে তার প্রশাসন ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ শাস্তির প্রয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।


মৃত্যুদণ্ডের সমর্থকরা দাবি করেন, এ শাস্তি অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। তবে সমালোচকদের মতে, কয়েক দশকের গবেষণায় এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মৃত্যুদণ্ডের নৈতিকতা ও বিপুল ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের (ডিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। অথচ এ সময়ে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের অসম প্রয়োগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নানা ত্রুটির ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ডিপিআইসির হিসাবে, ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্তত ২০৩ জন পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

নিউসমের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন অপরাধ বিচার সংস্কারবিষয়ক সংগঠন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ একটি পুরোনো, অকার্যকর ও অনৈতিক বিচারব্যবস্থা থেকে সরে আসার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

ডিপিআইসির নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গভর্নর নিউসমের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অন্য গভর্নররা অতীতে ব্যাপক ক্ষমা ঘোষণা করলেও এত বড় পরিসরে কেউ তা করেননি।’

তিনি আরও বলেন, গভর্নর হিসেবে দায়িত্বের শুরুতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ এবং এখন গণহারে সাজা কমানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিউসম ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক আমূল বদলে দিয়েছেন।


তবে ডিপিআইসি জানিয়েছে, সাজা কমানোর সিদ্ধান্তগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, একাধিক গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সাজা কমানোর ক্ষেত্রে আদালতের পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও গত শতাব্দীর শেষ দিকে কঠোর অপরাধ দমন নীতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল ক্যালিফোর্নিয়া। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়া প্রথম দিকের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ছিল, যারা ‘থ্রি স্ট্রাইকস’ আইন চালু করে। এ আইনে বারবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াতেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। নিউজমের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির বড় সাফল্যের কয়েক দিন পরই এ ঘোষণা দিলেন নিউসম। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এক দিনে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

এক দিনে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

এক ঘণ্টা ধরে স্ত্রীকে ‘বাঁচানোর চেষ্টা’, ব্যর্থ হয়ে লাশ টুকরো টুকরো করেন নরেশ!

এক ঘণ্টা ধরে স্ত্রীকে ‘বাঁচানোর চেষ্টা’, ব্যর্থ হয়ে লাশ টুকরো টুকরো করেন নরেশ!

মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন কবে? জানাল যুক্তরাষ্ট্র

মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন কবে? জানাল যুক্তরাষ্ট্র

পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের মহাকাশ শক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

ইরানের মহাকাশ শক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ

ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ

রিপাবলিকানদের ভরাডুবিতে বড় ক্ষতি হলো ইলন মাস্কের

রিপাবলিকানদের ভরাডুবিতে বড় ক্ষতি হলো ইলন মাস্কের

এক দিনে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

এক দিনে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম