ইউটিএলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করা অপরিহার্য
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করে তোলার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার সংগঠনটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণ বন্ধ, ভিন্নমতের চর্চা এবং রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিক পালন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শনিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিপ্লব ও বিজয়ে ৩৬ জুলাই: নতুন প্রত্যাশায় আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগের সংস্কৃতি উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হলে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে এবং ভিন্নমত প্রকাশের অবাধ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করেন না, তারা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের কারিগর। তাই শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়নে শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি বিরক্তি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ বলেন, শিক্ষকরা কেবল পাঠদান করেন না, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তিনি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা ইউটিএল উচ্চশিক্ষার গুণগত উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ভিন্নমতকে ধারণ করার সক্ষমতার ওপরই ইউটিএলের সাফল্য নির্ভর করবে। সংগঠনটি যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম না হয়ে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে, সে আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে ‘উচ্চ শিক্ষায় উৎকর্ষ ও পেশাদারিত্ব: সময়ের অনিবার্য অপরিহার্যতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. আতিয়ার রহমান।
প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, একবিংশ শতাব্দীতে একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম ভিত্তি হলো দক্ষ মানবসম্পদ, যার মূল চালিকাশক্তি উচ্চশিক্ষা। বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, বিগ ডেটা ও আইওটির মতো প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করে তোলা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। এ লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য উচ্চ শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বিকল্প নেই; অন্যথায় ভবিষ্যতে মেধা ও দক্ষতার বড় সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. হায়দার আলী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের বইনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউটিএলের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসেন।সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. শামসুল ইসলাম, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ- উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, এনসিপির যুগ্ম আহবায় আলী আহসান জুনায়েদ, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।
