Logo
Logo
×
   

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

সাক্ষাৎকারে যে ১০ ভুলে হাতছাড়া হতে পারে চাকরি

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

সাক্ষাৎকারে যে ১০ ভুলে হাতছাড়া হতে পারে চাকরি

ফাইল ছবি

Advertisement

জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্র দেখে কোনো প্রতিষ্ঠান আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকলে বুঝতে হবে, আপনি প্রাথমিকভাবে তাদের নজরে এসেছেন। এখন চাকরি পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকারে নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

তবে অনেক সময় অভিজ্ঞ প্রার্থীরাও সাক্ষাৎকারের সময় নার্ভাস হয়ে কিছু ভুল করে ফেলেন। এসব ছোট ভুলও চাকরি পাওয়ার সুযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই আগে থেকেই সাধারণ ভুলগুলো সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো এড়িয়ে চলার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে না জানা: যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, সাক্ষাৎকারের আগে সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ‘আমাদের সম্পর্কে’ অংশ পড়ুন। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, কার্যক্রম, বাজারের প্রতিযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কেও ধারণা নিন।

দেরি করে পৌঁছানো: সাক্ষাৎকারে কয়েক মিনিট দেরি করাও আপনার সময়নিষ্ঠা নিয়ে নিয়োগদাতার মনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই হাতে যথেষ্ট সময় রেখে বের হন। প্রয়োজনে আগে থেকেই সাক্ষাৎকারের স্থান দেখে আসুন এবং সেখানে যেতে কত সময় লাগে, তা জেনে নিন।

উপযুক্ত পোশাক না পরা: সাক্ষাৎকারে পোশাকের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের জন্য স্বাভাবিক বা অনানুষ্ঠানিক পোশাকের অনুমতি দিলেও সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে পরিপাটি ও পেশাদার পোশাক পরা নিরাপদ। আগেই পোশাক ঠিক করে পরিষ্কার ও ইস্ত্রি করে রাখুন।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকা: সাক্ষাৎকারের সময় মোবাইল ফোন, নখ কাটার যন্ত্র, চুইংগামসহ অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকা ঠিক নয়। এগুলো সাক্ষাৎকারের টেবিলে না রাখাই ভালো।

শারীরিক ভাষায় ভুল করা: চোখে চোখ রেখে কথা বলা, সোজা হয়ে বসা, স্বাভাবিক হাসি এবং আত্মবিশ্বাসী আচরণ সাক্ষাৎকারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঢিলেঢালা হয়ে বসা বা অস্বস্তিকর অঙ্গভঙ্গি এড়িয়ে চলুন।

অস্পষ্টভাবে কথা বলা: প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কিছুটা সময় নিয়ে ভাবুন। খুব দ্রুত বা অস্পষ্টভাবে কথা বলা এবং বারবার থেমে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাব হিসেবে দেখা হতে পারে। এমনভাবে কথা বলুন, যাতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সহজেই আপনার কথা বুঝতে পারেন।

সাবেক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক কথা না বলা: বর্তমান বা সাবেক নিয়োগদাতা সম্পর্কে অভিযোগ বা খারাপ মন্তব্য করা উচিত নয়। আপনার আগের কর্মস্থলে সমস্যা থাকলেও তা নেতিবাচকভাবে তুলে ধরলে আপনার পেশাদার ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়তে পারে।

সুযোগ দেওয়া হলেও প্রশ্ন না করা: সাক্ষাৎকারের শেষে নিয়োগদাতা প্রশ্ন করার সুযোগ দিলে তা কাজে লাগান। চাকরির দায়িত্ব বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলে কাজটির প্রতি আপনার আগ্রহ প্রকাশ পায়।

জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা তথ্য দেওয়া: জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া যেকোনো তথ্য সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হতে পারে। তাই কাজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অন্য কোনো বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া উচিত নয়। পরে তা ধরা পড়লে আপনার পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত হওয়া: চাকরিটি কেন খুব প্রয়োজন, ঋণের পরিমাণ কত বা ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করাই ভালো। একইভাবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বা অতি ঘনিষ্ঠ আচরণও এড়িয়ে চলুন।

অতিরিক্ত জীবনবৃত্তান্ত না নেওয়া: সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সংখ্যা আগে থেকে নিশ্চিত না হলে কয়েকটি অতিরিক্ত জীবনবৃত্তান্ত সঙ্গে রাখতে পারেন। এতে আপনার প্রস্তুতির বিষয়টি বোঝা যায়।

আমন্ত্রণের আগেই বসে পড়া: সাক্ষাৎকারের কক্ষে গিয়ে আপনাকে বসতে বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বসার সময় পিঠ বাঁকিয়ে বা পা এলোমেলো করে না বসে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে থাকুন।

শুরুতেই বেতন বা ছুটির কথা তোলা: চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার আগে বেতন, ছুটি বা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু না করাই ভালো।

সাক্ষাৎকারের পর যোগাযোগ রক্ষা না করা: সাক্ষাৎকার ভালো হয়নি মনে হলেও পরে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা বা ই-মেইলে সময় দেওয়ার জন্য নিয়োগদাতাকে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে। এতে চাকরিটির প্রতি আপনার আগ্রহও প্রকাশ পায়।

ভুল হয়ে গেলে কী করবেন

সাক্ষাৎকারে ভুল হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করুন। দেরি হলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে কারণ জানাতে পারেন। পোশাক বা অন্য কোনো বিষয়ে ভুল হলেও নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনার কী অবদান থাকতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দিন।

সাক্ষাৎকার শেষে নিয়োগদাতার সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রথম সাক্ষাৎকারে ভুল হলেও দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেলে আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি ভুলকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের সাক্ষাৎকারের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবে নেওয়া।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম