কম টেস্টোস্টেরনের কারণে পুরুষের শরীরে দেখা দিতে পারে এই ৫ সমস্যা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা পেশির শক্তি কমে আসা—এসব সমস্যার পেছনে থাকতে পারে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বল্পতা। এ ছাড়া আগে যেসব কাজে আগ্রহ ছিল, সেগুলোতেও অনীহা দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ অন্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
টেস্টোস্টেরন হরমোন কী?
টেস্টোস্টেরন একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌন হরমোন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি মূলত অণ্ডকোষে উৎপন্ন হয়। যৌন বিকাশ, যৌন আকাঙ্ক্ষা, পেশির ভর বজায় রাখা এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এই হরমোন ভূমিকা রাখে। নারীদের শরীরেও অল্প পরিমাণে টেস্টোস্টেরন তৈরি হয়।
পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি সমস্যা হলো—
১. পেটের চর্বি ও ওজন বৃদ্ধি
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি বৃদ্ধি এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অতিরিক্ত চর্বি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। চর্বি কোষে টেস্টোস্টেরন ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত হতে পারে, যা হরমোনের মাত্রাকে আরও প্রভাবিত করে।
করণীয়: শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন, বাদাম, জিঙ্ক ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। চিনিযুক্ত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের মাধ্যমে হরমোনের স্বল্পতা দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
২. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও শক্তি কমে যাওয়া
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীর ক্লান্ত লাগা, কাজে শক্তি না পাওয়া কিংবা সারাক্ষণ অবসাদ অনুভব করা কম টেস্টোস্টেরনের লক্ষণ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, ঘুমের সমস্যা বা অন্য দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণেও এমন হতে পারে।
করণীয়: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যোগব্যায়াম বা ধ্যান মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে এর কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া ও যৌন সমস্যা
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে উত্থানজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে যৌন সমস্যার পেছনে ডায়াবেটিস, রক্তনালির অসুস্থতা, মানসিক চাপ কিংবা অন্য হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও থাকতে পারে।
করণীয়: নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন যৌনস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
৪. মেজাজের পরিবর্তন ও মানসিক অস্থিরতা
টেস্টোস্টেরনের স্বল্পতার সঙ্গে মেজাজের পরিবর্তন, বিরক্তি, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার সম্পর্ক থাকতে পারে। হরমোনের মাত্রা কমে গেলে মানসিক সুস্থতাও প্রভাবিত হতে পারে। তবে এসব উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে।
করণীয়: সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সুস্থতায় সহায়তা করে। পালংশাক, আখরোট ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলা বা কমানোও উপকারী।
৫. পেশির ভর ও শক্তি কমে যাওয়া
পেশি তৈরি ও তা বজায় রাখতে টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ হরমোনের মাত্রা কমে গেলে পেশির ভর ও শক্তি হ্রাস পেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন কাজ কিংবা কায়িক পরিশ্রম করতে আগের তুলনায় বেশি কষ্ট হতে পারে।
করণীয়: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভারোত্তোলন বা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা যেতে পারে। পাশাপাশি ডিম, ডাল, দুগ্ধজাত খাবার ও চর্বিহীন মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পেশি মেরামত ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে নিয়মিত সক্রিয় থাকা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণগুলো এককভাবে হরমোনের স্বল্পতা নিশ্চিত করে না। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাধারণত সকালে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা ও অন্যান্য মূল্যায়ন করা হতে পারে।
নিজে থেকে টেস্টোস্টেরন বা হরমোন বাড়ানোর ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
