কোর্সের উত্তরপত্র হারানোর জের
শিক্ষার্থীদের কক্ষে নিয়ে ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ সিনিয়রের
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি কোর্সের উত্তরপত্র হারানোর অভিযোগের জেরে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিভাগের সভাপতির কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উত্তরপত্র হারানোর ঘটনায় গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
জানা যায়, বুধবার যুগান্তরে ‘পরীক্ষার খাতা হারিয়ে ফেলেছেন উপ-উপাচার্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র হারানোর বিষয়টি জানতে পেরে বেলা ১১টার দিকে বিভাগে যান।
পরে দুপুর ১টার দিকে তারা বিভাগের সভাপতির কাছে ১০ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ওই সেমিস্টারের ফল প্রকাশ, ফল প্রকাশের সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষের পরবর্তী পরীক্ষা শুরু এবং উত্তরপত্র হারানোর কারণে সৃষ্ট গ্যাপ পরবর্তী সেমিস্টারে পুষিয়ে নেওয়া।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমুর রহমান জয় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভাগের একটি কক্ষে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বললে শিক্ষকদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নম্বর কম দেওয়া, সেশনজটে ফেলা এবং ফেসবুকে পোস্ট করলে শিক্ষকদের রোষানলে পড়াসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
জয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই শিক্ষার্থী হলেন- বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মুফতাইন আহমেদ সাবিক এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আলীনুর রহমান। তারা দুজন বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গোপনে বৈঠক করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে তাসলিমুর রহমান জয় বলেন, বিভাগের ছোট ভাইয়েরা বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত থাকায় তাদের বোঝানোর জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়নি।
মুফতাইন আহমেদ সাবিক বলেন, বিভাগের ফুটবল ও ভলিবলের জার্সির টাকা নিতে তিনি বিভাগে গিয়েছিলেন।
আলীনুর রহমান বলেন, সাবিককে ডাকতে তিনি সেখানে একবার গিয়েছিলেন। ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এদিকে উত্তরপত্র হারানোর ঘটনায় বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার দুপুরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহাবুল আলম বলেন, তারা সব কাজ সম্পন্ন করে দুপুরে বিভাগীয় সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। পরবর্তী বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গফুর গাজী বলেন, প্রতিবেদনটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে গেলে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
