ইবিতে সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, তদন্তে দুই কমিটি
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির জেরে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে এ ঘটনায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যসহ কয়েকজন শিক্ষক হেনস্তার শিকার হন।
ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র-উপদেষ্টার জরুরি সভায় তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রউফ ও মোসাব্বির হোসেন। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলা বিভাগ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হৃদয় ও আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবু সাইদের মধ্যে মারামারি হয়। এর জেরে বুধবার দুপুরে প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠক হয়।
বৈঠকে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। পরস্পরকে ক্ষমা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় না জড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তবে বৈঠক শেষে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের মারামারি শুরু হয়। এতে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারান এবং একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক তারেক হাসান আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মনজুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান ও সহকারী প্রক্টর আব্দুল বারী হেনস্থার শিকার হন। পরে আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে তারা তালা খুলে দেন। এদিকে ঘটনার বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষকরা জরুরি বৈঠকে বসেন।
ঘটনার কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত ও শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দকে আহ্বায়ক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন মোল্লাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ, পরিবহণ প্রশাসক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও সহকারী প্রক্টর জাকির হোসেন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির সুপারিশ করতে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মনজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি করেছে বাংলা বিভাগ। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সন্ধ্যায় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার পর জরুরি কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
