মুজিবের নামে হলের নামফলক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ, ডাকসু নেতাদের প্রতিবাদ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ (প্রস্তাবিত) নামফলক সরিয়ে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামফলক স্থাপনের উদ্যোগ অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর নেতারা।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলীর নেতৃত্বে এ প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা আজ কথা বলতে দাঁড়িয়েছি। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হল থাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আপত্তি তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ হলো, বর্তমানে এই নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী কোথাও নিজেদের শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে তারা নানা ধরনের হয়রানি, মারধর, নির্যাতন ও অস্বস্তির মুখে পড়ছেন। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হলটির নাম পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাম পরিবর্তনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আমরা কোনো নির্দিষ্ট নাম চাপিয়ে দিতে চাই না; শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে হলটির নাম পরিবর্তন করা হোক, এটাই আমাদের দাবি। ১৬ ডিসেম্বর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক দিতে যাওয়ার সময় হলের ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম দেখে 'নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ' এর কেউ মনে করে পুলিশ সেটি সরিয়ে নিয়েছিল এবং হেনস্তা করেছিল। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপমানবোধ তৈরি হয়েছে।’
নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর খবরে প্রকাশিত হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম শহীদ ওসমান হাদির নামে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয় এবং আবার সিন্ডিকেটে ফেরত আসে। সিনেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নাম পরিবর্তনের দাবিতে ওয়াকআউটও করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগে হলটির নাম পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছিল। তাই এখন কেন আগের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’
মুসাদ্দিক আলী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন হঠাৎ মুজিববাদের পাহাড়াদার হয়ে উঠতে চাচ্ছে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন ফ্যাসিবাদের পাহাড়াদার হয়ে উঠতে চাচ্ছে? এইটা আমাদেরকে যথেষ্ট ভাবাচ্ছে। এই বিষয়টি যথেষ্ট সন্দেহজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ভোট ভাগাভাগির ইস্যুতে নীল দলের সাথে এই ইস্যুতে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে ব্যাকডোরে কোনো লিয়াজোঁ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। কোনো অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় ফ্যাসিাবাদী আইকনের নামে হলের নাম ফলক ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কি না সেই প্রশ্নও আমরা তুলছি।’
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিপুল অর্থ ব্যয় করে এখানে ফ্যাসিবাদের আইকনের নামে স্টিলের দামি নামফলক বসানো হবে; এটি অনেক টাকার ব্যাপার এবং এর জন্য বিপুল অংকের বাজেট করা হয়েছে বলে চাউর হয়েছে। এই টাকা লীগ থেকে ফান্ডিং করেছে কি না এই প্রশ্নও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বীরউত্তম জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেই হলে এখন পর্যন্ত কোনো নান্দনিক গেট নাই। ফ্যাসিবাদী লীগ কোনো গেট বানাতে দেয় নাই। আজকে বিএনপির ক্ষমতার ছয় মাস, অথচ এখন পর্যন্ত তারা জিয়া হলে একটি নান্দনিক গেট নির্মাণ করতে পারে নাই, অথচ তারা ফ্যাসিবাদী আইকনের নামে হলের নামফলক বসানোর জন্য এবং ফ্যাসিবাদের আইকনের নামকে চকচক করানোর জন্য অঢেল টাকা ঢালতে যাচ্ছে। এইখানে আমি দূরভিসন্ধি লক্ষ্য করছি!’
মুসাদ্দিক আলী বলেন, ‘আমি মনে করি যে, এটি বিএনপি সরকার ও বিএনপি নিয়ন্ত্রিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে ব্যাকডোরে ফ্যাসিাবাদীদের হওয়া কোনো লিয়াজোঁয়ের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।’
