জুনিয়রকে গালিগালাজের অভিযোগ, গোবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর
Advertisement
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শুরু হওয়া এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার সময় মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তার মেজো ভাই অয়েজ জামান, যিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে আইন বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী তার ভাইকে মা-বাবাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন।
অভিযোগে জায়েদ জামান উল্লেখ করেন, দূর থেকে বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তাকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের দুই ভাইকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাদের আলাদা করে বাড়ি যেতে সহায়তা করেন। পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা তাদের অটোরিকশায় তুলে দিলেও আইন বিভাগের মেহেদী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিপ্র চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাদের সরিয়ে নেন। এ সময় প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন জায়েদ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে নিয়ে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের প্রক্টর দপ্তরে যান। সেখানে দুই বিভাগের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত এ আলোচনা চলে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় আমি থানায় ছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার বিকাল ৪টার মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী।

-6ac8acadd1631.jpg)