ডাকসুর উদ্যোগে চুরি হওয়া ফোন ফিরে পেলেন ঢাবির তিন শিক্ষার্থী
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন আগে চুরি হওয়া মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহযোগিতায় ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে যাচাই-বাছাই শেষে ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ফোন ফিরে পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—মার্কেটিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাইদুল ইসলাম ইফাস, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. রাকিব হোসেন এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জয়নাল আবেদীন। তাদের ফোনগুলো যথাক্রমে ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের ২ আগস্ট চুরি হয়েছিল।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে বিষয়টি জানানোর পর তিনি ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে ফোন উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। দীর্ঘ সময় পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে ডাকসুর এই উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব জায়গা থেকে চেষ্টা করেছে আমাদেরকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তারা সব জায়গায় আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের কাজ করার জন্য। শিক্ষার্থীরাই বলছে, আমরা যে কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম, তার থেকেও শতগুণ বেশি কাজ আমরা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে তিনটি ফোন শিক্ষার্থীরা ফিরে পেলেন ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির মাধ্যমে এবং ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সমন্বয়ে। শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে আমি যে আনন্দ লক্ষ্য করছি, উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করছি, এটা আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করছে। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই শুধু সমালোচনা করতে চান। বলতে চান, এটা কি ডাকসুর কাজ? ডাকসুর কাজ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য যা দরকার, আমরা তাই করার চেষ্টা করেছি।’
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে টিউশনের টাকা জমিয়ে একটি মোবাইলফোন কেনেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় সেই ফোন ছিনতাইয়ের শিকার হয়, চুরি হয়ে যায় কিংবা অসাবধানতাবশত হারিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই সেই জিডির কার্যকর অগ্রগতি হয় না। তাই আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সমন্বয় ও যোগাযোগের একটি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা যায়।’
মুসাদ্দিক আলী আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শুরু করি। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে আজ আমরা তাদের হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করে তাদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। ১৮ এপিবিএন রাঙামাটি সাইবার ক্রাইমের অধিনায়ক রেজাউল করিম ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন তিনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৮ এপিবিএন রাঙামাটি সাইবার ক্রাইম পুলিশকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষ করে রেজাউল করিম মল্লিক ভাইকে। তিনি সব সময় বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করে আসছেন। তার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, তিনজন শিক্ষার্থীর অনেক কষ্টে জমানো টাকায় কেনা ফোন তিনটি দীর্ঘ সময় পর হলেও উদ্ধার করে তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। ফোনটি ফিরে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মুখে যে হাসি দেখেছি, সেটিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রিজওয়ান মানসুরীর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন আহমেদ শাকিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
