জগন্নাথ হলের ট্র্যাজেডি: ৪০ প্রাণের স্মৃতিতে শোকাতুর ঢাবি
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে জগন্নাথ হলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, অতিথি ও কর্মচারী। সেই শোকাবহ স্মৃতিকে ধারণ করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, প্রার্থনা ও রক্তদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জগন্নাথ হলের কিশোরীলাল রায় চৌধুরী অডিটোরিয়ামে উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেবাশীষ পাল, হলটির সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অজয় কুমার দাস, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক নিবাস চন্দ্র মাঝি বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জগন্নাথ হলের আহত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা বক্তব্য দেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক ঘটনা জাতি-ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রিত করেছিল। ঐক্যের এই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং সমাজে তা ছড়িয়ে দিতে হবে।’
উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে তারা কাজ করছেন। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে আবাসিক হলসহ নিজ নিজ বাসস্থানে সবাই নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার। সবাইকে নিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’ নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল, হোস্টেল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সেখানে রক্তদান কর্মসূচিও পালন করা হয়। বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হলের মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া জগন্নাথ হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও তাদের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হলের উপাসনালয়ে শোকসংগীত ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ‘অক্টোবর স্মৃতি রচনা প্রতিযোগিতা’ ও ‘অক্টোবর স্মৃতি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’রও আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। আহত হন অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অতিথি। সেই দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর বেদনা আর সহপাঠীদের স্মৃতি আজও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে শোকের এক গভীর অধ্যায় হয়ে আছে। নিহতদের স্মরণে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করা হয়।
