উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান, চুয়েটে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান, চুয়েটে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন। এর প্রতিবাদে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ ৩৬ দিন অচল থাকার পর গত বুধবার থেকে আংশিকভাবে শুরু হয় চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম। তবে ছয় দিনের মাথায় আবারও শূন্য চুয়েটের ক্লাশ-ল্যাবগুলো।
জানা যায়, রোববার দুপুরে এক ই-মেইল বার্তায় রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি অর্পণ করা হয়। ওই বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম উল্লেখ করেন, ২ নভেম্বর ইউজিসির একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করবেন। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ১ নভেম্বর বিকাল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন।
পরে সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে উপাচার্যের দেওয়া রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেন উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসা শিক্ষার্থীরা। শাটডাউনের আওতায় সোমবার সব ক্লাশ, পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত যেকোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাঈন মিহাদ বলেন, গত ২৮ অক্টোবর থেকে আমরা ক্লাশে কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমরা এটি জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যেকোনো কার্যক্রম আমরা প্রত্যাখ্যান করব। তাই আমাদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে ক্লাশ বর্জন করেছি। রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি যেহেতু আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বহাল থাকবে তাই মঙ্গলবার থেকে যথারীতি আমরা আবার ক্লাশে ফিরে যাব।
চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে মঙ্গলবার থেকে তারা ক্লাশে ফিরবে।
আন্দোলনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের মোট ৪০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। পরে কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ৩৬ দিন পর গত বুধবার আংশিকভাবে শুরু হয় ক্লাশ কার্যক্রম। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনো তালাবদ্ধ রয়েছে প্রশাসনিক ভবন।
