স্কুল-কলেজে ‘মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ মাউশির
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: উইকিপিডিয়া
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ‘মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। রোববার (৮ নভেম্বর) মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমের সই করা এক চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ‘মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবক ছাড়াও স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সেই সঙ্গে আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্টদের [email protected] এই ইমেইলে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে একই দিন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে দেশব্যাপী আর্ট এক্সিবিশন আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ‘আর্ট বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেড এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আর্ট পেপার সরবরাহ, চিত্রাঙ্কন মূল্যায়ন, নির্বাচিতদের নিয়ে প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়। মাউশির আওতাধীন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের পরিচালক, উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মাউশির চিঠি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি চিত্রাঙ্কনের প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং তাদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভা তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
বিনামূল্যে দেয়া হবে আর্ট পেপার
আয়োজনের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্ট পেপার বিতরণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো বিষয় নির্বাচন করে ছবি আঁকতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় বেধে দেয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা চাইলে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসে অথবা বাড়িতে ছবি আঁকার কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। পরে আঁকা ছবিগুলো নির্ধারিত শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে। আর্ট পেপারের চাহিদাপত্র ও কার্যক্রম পরিচালনার নিয়মাবলী অনুমোদনসংক্রান্ত চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
যেভাবে মূল্যায়ন ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলবে
শিক্ষার্থীদের জমা দেয়া চিত্রকর্ম প্রথমে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে জানানো হবে। তবে সব অংশগ্রহণকারী সরাসরি প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবে না। যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে এবং এসএমএস পাবে, কেবল তারাই নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্ট এক্সিবিশনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবে।
নিবন্ধন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর জন্য বিবেচনা করা হবে। এ প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য শিক্ষার্থীরা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রত্যেক জেলায় থাকবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
দেশব্যাপী এ কার্যক্রমের আওতায় প্রত্যেক জেলায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন কার্যক্রম শুধু ছবি জমা ও মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জেলা পর্যায়েও পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাতীয় চিত্রশালায় হবে নির্বাচিত চিত্রকর্মের প্রদর্শনী
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম নিয়ে মূল আর্ট এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। নির্ধারিত স্থান হিসেবে রাখা হয়েছে সেগুনবাগিচার জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারিসমূহ।
প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় পরবর্তী সময়ে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়া হবে।
১০০ শিক্ষার্থী পাবেন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর জন্য শতভাগ স্কলারশিপ
এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেশের সব জেলার অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্য থেকে ১০০ জনকে শতভাগ স্কলারশিপ দেয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। নির্বাচিত এসব শিক্ষার্থীর চিত্রকর্ম পাঁচটি দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আর্ট এক্সিবিশনে প্রদর্শন করা হবে।
এর মাধ্যমে দেশীয় শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি দেশের বাইরেও প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ ১০০ জন নির্বাচনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে চিঠিতে আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
তিন মাস পরপর মাউশিতে জমা দিতে হবে প্রতিবেদন
কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মাউশির পক্ষ থেকে একটি প্রশাসনিক শর্তও দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, আয়োজনের জেলাভিত্তিক অগ্রগতি ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রতি তিন মাস অন্তর ‘আর্ট বাংলাদেশ’-এর পরিচালককে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগে জমা দিতে হবে।
