Logo
Logo
×

Advertisement

ক্যাম্পাস

ইবির ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাই

Icon

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম

ইবির ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাই

ফাইল ছবি

Advertisement

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২৬৮ অস্থায়ী কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের কেউ থোক বরাদ্দে, কেউ দৈনিক মজুরিতে, আবার কেউ পোষ্য কোটায় অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কাজ করেও স্থায়ী হয়নি চাকরি তাদের। এদিকে টানা তিন মাস বেতন বকেয়া রয়েছে তাদের। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ইউজিসির নির্দেশনার ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। তবে কর্মচারীদের দাবি, ইউজিসির এমন নির্দেশনা আগেও ছিল কিন্তু বিগত প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে শিগগিরই কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের প্রয়োজনের ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়। তাদের কেউ থোক বরাদ্দে, কেউ দৈনিক মজুরিতে, আবার কেউ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পান। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল মিলিয়ে ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬২ জন বিভিন্ন সময়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থোক বরাদ্দে নিয়োজিত। তাদের অধিকাংশই পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ২০০ জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন।

এসব কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় হয় প্রায় ২১ লাখ টাকা। ইউজিসির বিশেষ বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে এতদিন তাদের বেতন দেওয়া হতো। তবে অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে ঋণ নিয়ে বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়েছে। 

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিন্ডিকেটের অনুমোদনে নন-টেকনিক্যাল কর্মচারীদের মাসিক বেতন ১০ হাজার এবং টেকনিক্যাল কর্মচারীদের ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছেন কর্মচারীরা। তাদের মধ্যে ৫৬ জন চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও করেছেন। তাদের অভিযোগ, পোষ্য কোটায় নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের বিধান থাকলেও কাউকে স্থায়ী করা হয়নি।

কর্মচারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১৯৬তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তার স্ত্রী বা সন্তানদের যোগ্যতা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের দিকে একই প্রক্রিয়ায় পোষ্য কোটায় দুজনকে স্থায়ী নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তাদের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সামান্য বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর বেতন বন্ধ ও চাকরি হারানোর অনিশ্চয়তা তাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে।

২০২০ সালে ইউজিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত অ্যাডহক, মাস্টাররোল ও দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে। তবে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে না। তবে কর্মচারীদের দাবি, ইউজিসির এমন নির্দেশনা আগেও ছিল। কিন্তু বিগত কোনো প্রশাসন তাদের বেতন বন্ধ করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীর জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া এবং তাদের আর বহাল না রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির চিঠির ভিত্তিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি জনবল সংকটের বিষয়ে নতুন করে নোট দিতে বলেছে ইউজিসি। সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তর চাইলে এসব কর্মচারীকে কাজে রাখতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের বেতনের দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দপ্তরকেই বহন করতে হবে।

কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, তৎকালীন নীতিমালা অনুযায়ী সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পোষ্য কোটায় আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে চাকরি স্থায়ী করা হবে। কিন্তু এখন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে আমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ থেকে ২০ বছর কাজ করার পর হঠাৎ ছাঁটাই করা হচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাব, কী করব, কী পরিচয় দেব? পরিবার নিয়ে এখন আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু আরও বলেন, মূলত আমাদের জায়গায় নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্যই বাদ দেওয়া হচ্ছে। সার্কুলারের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। সেখানে টাকার লেনদেন হবে বলে আমাদের আশঙ্কা। ইউজিসির ছাঁটাইসংক্রান্ত নির্দেশনার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রতিবছরই ইউজিসি এ ধরনের চিঠি দেয়। বিগত প্রশাসনগুলো তো আমাদের বাদ দেয়নি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর ব্যয় বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাদের বেতন-ভাতা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় পদের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। কমিশন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সেই প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে যারা কাজ করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে। আর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধ করা হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের প্রতিবাদে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের প্রতিবাদে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

বিয়ে হয়নি ইবির সেই প্রেমিক যুগলের

বিয়ে হয়নি ইবির সেই প্রেমিক যুগলের

ইবিতে আপত্তিকর অবস্থায় প্রেমিক যুগল আটক, আজ বিয়ে

ইবিতে আপত্তিকর অবস্থায় প্রেমিক যুগল আটক, আজ বিয়ে

ইবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি তলানিতে

ইবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি তলানিতে

যমজ সন্তান সামলে জজ হলেন শারমিন

যমজ সন্তান সামলে জজ হলেন শারমিন

মাস্টার্স শেষের আগেই জজ হলেন রাজু

মাস্টার্স শেষের আগেই জজ হলেন রাজু

আরও পড়ুন

ইবির ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাই

ইবির ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাই

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে যা জানা গেল

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে যা জানা গেল

রাকসুর জিম সরঞ্জাম বিতরণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপত্তি

রাকসুর জিম সরঞ্জাম বিতরণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপত্তি

আগারগাঁওয়ে আবারও সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের

আগারগাঁওয়ে আবারও সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম