Logo
Logo
×

Advertisement

রাজধানী

ডেমরায় তেল সংকটে ক্রমেই বাড়ছে হাহাকার

Advertisement

Icon

ডেমরা (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

ডেমরায় তেল সংকটে ক্রমেই বাড়ছে হাহাকার

রাজধানীর ডেমরায় তেল সংকটে ক্রমেই বাড়ছে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন চালকদের হাহাকার। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

রাজধানীর ডেমরায় তেল সংকটে ক্রমেই বাড়ছে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন চালকদের হাহাকার। ঈদের ২ দিন আগ পর্যন্ত পাম্পগুলোতে কোনমতে তেল পাওয়া গেলেও তারপর থেকে তেল মিলছেনা এখানকার পেট্রল পাম্পগুলোতে। তবে দু’একটি পাম্পে কিছু সময় তেল মিললেও পরক্ষণেই আবার তেল শেষ। এতে ডেমরা ও আশাপাশের থানা এলাকার যানবাহন চালক, প্রাইভেটকার চালক ও মোটরসাইকেল চালকরা তেল শুন্যতায় মহাসংকটের মধ্যে পড়েছে।  

এদিকে ঈদের ১ দিন আগে থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ডেমরার প্রায় সকল পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ঈদের ১ দিন পরে দু’একটি পাম্প অল্প সময় তেল দিতে পারলেও বাকি সময় বন্ধ ছিল। তবে ঈদের ২ দিন পর পর্যন্ত ডেমরার পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সকল প্রকার যানবাহন চালকরা ছিল চরম বিপাকে। তেল সংকটের কারণে চালকদের দূর-দূরান্ত থেকে তেল আনতে হয়েছে, তাও আবার অল্প পরিমাণ। এক্ষেত্রে অকটেন-পেট্রল ও ডিজেল পর্যাপ্ত না পাওয়ায় এখানকার পেট্রল পাম্পগুলো ঈদের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

অভিযোগ, সরকারিভাবে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেমরায়  অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে স্বাভাবিকতা ফিরেনি। এখনো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না পেট্রল পাম্পগুলো। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে তেল অনেক কম পরিমানেও মিলছেনা। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের চালকরা রয়েছেন চরম বিপাকে।  তবে পণ্যবাহী যানবাহন ও ট্রাকগুলো ঈদের ছুটিতে বন্ধ থাকায় তাদের বিড়ম্বনা কিছুটা কম থাকলেও মঙ্গলবার ছিল মারাত্মক সমস্যায়। এ সময় দু’একটি পাম্পে অল্প তেল সরবরাহ হলেও সিরিয়াল দীর্ঘ হয়েছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা- যাত্রাবাড়ী সড়কে তেলবাহী বড় বড় কিছু ট্রাক চলতে দেখা গেলেও ডেমরার পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলো। ডেমরার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে একই নিয়মে কাউকে ডিজেল দিলে পেট্রোল দিয়েছে তার অর্ধেক পরিমাণ। আবার কোন পাম্পে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল একবারেই পায়নি। তাই তেল গ্রহীতাদের বাধ্য হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত পাম্পে যেতে হয়েছে।   

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিটি পাম্পে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ ঈদ বোনাস দিতে কষ্ট হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেমরার পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তি ছিল চরমে। সরকারি  ঘোষণায় রেশনিং তুলে নিলেও প্রকৃতপক্ষে এখনো রেশনিং চলমান রয়েছে পাম্পগুলোর ক্ষেত্রে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় মঙ্গলবারেও সিটি পেট্রোল পাম্প কিছু সময় খোলা থাকলেও বেশিরভাগ সময় ছিল বন্ধ। একই সঙ্গে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার রাসেল ফিলিং স্টেশন, মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশন ও মুন পেট্রোল পাম্পে কিছু সময় তেল বিক্রি করলেও দিনভর পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।   তবে খিলগাঁও থানাধীন নাকদার পাড় এলাকায় কিকো ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একই সঙ্গে ডেমরার মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার দুপুরে পাম্প চালু থাকলেও পরে বন্ধ ছিল।  

রূপগঞ্জের যাত্রামুড়া এলাকা থেকে সিকদার ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কারের তেল নিতে আসা গ্রাহক মো. জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি আশা করে রূপগঞ্জ থেকে ডেমরায় তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। এতে করে তেল নিতে আমার যে তেল পুড়েছে প্রাইভেটকারের সেটা আরও বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমার গাড়ি সিএনজি করা নাই বলে আমি ঝামেলায় পড়েছি। তবে আমি জানতাম শিকদার ফিলিং স্টেশনে তেল সবসময় পাওয়া যায়। কিন্তু মঙ্গলবারে দেখলাম পেট্রল পাম্প বন্ধ।

এ বিষয়ে সিকদার ফিলিং স্টেশন এর মালিক পরিচালক মো. রনি মুন্সি জানান, ঈদের আগের দিন থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডিপো থেকে তেল পাইনি। মঙ্গলবার দুপুরে অল্প কিছু তেল পেলেও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সোমবারে কিছু ডিজেল পেয়েছি। বর্তমানে তেল বিক্রি করতে পারছিনা বলে আমাদের মোটা অংকের লোকশন হবে যা ওপেন সিক্রেট। বর্তমানে তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম