২০২৭ সালের জুনে শিশু পার্ক চালুর লক্ষ্য: আব্দুস সালাম
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ এএম
শহীদ মিনার সংলগ্ন শহীদ জিয়া শিশু পার্ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শহীদ মিনার সংলগ্ন শহীদ জিয়া শিশু পার্ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১৫টি আধুনিক রাইড কিনে স্থাপন করা বাকি। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করে দ্রুত শিশু পার্কটি খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে পূবালী ব্যাংক পিএলসির শিশু পার্ক শাখার আধুনিকায়ন ও নবসজ্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, শিশু পার্ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চললেও গতি খুব ধীর। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ব্যাংক সংক্রান্ত পর্বও শেষ হয়েছে। এখন আধুনিক ১৫টি রাইড কেনা ও স্থাপনই মূল কাজ। এসব রাইড প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাইড স্থাপন শেষ হলেই অতি দ্রুত পার্কটি খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এ পার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু শিশুদের নয়, পরিবারসহ সবার আনন্দ, বিনোদন ও খেলাধুলার জায়গা। মা-বাবারাও সন্তানদের নিয়ে এখানে সময় কাটাতে আসেন। দীর্ঘদিন পার্কটির কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তার মনে হয়, অনেকটা নামের কারণেই এ দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, স্বাধীনতার পর জাতীয়করণের নামে দলীয়করণ করে একে একে অনেক কিছু ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত ১৭ বছরেও অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ব্যাংকিং খাতে কীভাবে লুটপাট হয়েছে, তা সবাই জানে। দলীয়করণের কারণেই অর্থনীতিতে এ ধস নেমেছে। কিছু জায়গা রাষ্ট্র ও সবার জন্য ছেড়ে দিতে হবে। সবকিছু দলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেলে সাধারণ মানুষ কী করবে—এ প্রশ্নও রাখেন তিনি। দীর্ঘদিনের এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়।
তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার ছয় মাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোথায় কী অবস্থা, তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছেন। অর্থনৈতিক খাত যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তা পাঁচ-ছয় মাস বা এক বছরে সংস্কার করে পুরোপুরি দাঁড় করানো সম্ভব নয়। এ জন্য সময় লাগবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের অবস্থাও একই রকম। বর্তমান সরকার এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। বিরোধী দল থেকেও যারা এখন দ্রুত সমাধানের কথা বলছেন, তারাও জানেন এসব খাত কীভাবে ধ্বংস করে দিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক কারণে বারবার সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি বা স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা ঠিক নয়। বর্তমান সরকার দেশকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে জ্বালানি খাতসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতিও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করে সরবরাহ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তারপরও গ্যাস সংকট সমাধানে কাজ চলছে। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একের পর এক উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে কাজ করার সময় দিতে হবে। সরকার সফল না হলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হবে।
ডিএসসিসির দায়িত্ব নেওয়ার সময় করপোরেশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক অবস্থা ভালো ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটের অবস্থাও খারাপ ছিল। এরপরও কর বা ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানো হয়নি। বরং করের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র ২ লাখ ৯৫ হাজার হোল্ডিং কর দিচ্ছে; অনেক হোল্ডিং এখনো করের আওতার বাইরে। কর আদায় ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হচ্ছে। আগে করপোরেশনের ব্যাংকিং কার্যক্রম একটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন পূবালী ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে মানুষ বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে সেবা নিতে পারে।
ঢাকার ঐতিহ্য ও পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের সামনে এবং বিশ্বের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ঢাকাকে ভালোবাসলে এর সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে হবে। তিনি চান না ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর প্রথম ১ থেকে ১০টির মধ্যে থাকুক। প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে। পরিবেশ ও বায়ুর মান উন্নত করতে গাছ লাগাতে হবে।
তিনি জানান, সড়কের আইল্যান্ড ও ডিভাইডারের বিভিন্ন অংশ গাছ লাগানোর জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পূবালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এসব জায়গায় গাছ লাগানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এতে নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ উন্নত হবে।
আগামী মাসের শেষ দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কর্মসূচি শুরু হবে। ডিএসসিসি দুটি বাস দেবে। শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানবে, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও লালবাগ কেল্লাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরবে এবং ঢাকার অতীত সম্পর্কে জানবে। এ কর্মসূচিতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বাডাস) প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ. কে. আজাদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন বাডাসের মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট গ্রাহকরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের অঞ্চল প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক আবু লাইস মো. শামসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু পার্ক শাখার ব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপক ফারহানা হক।

