কোটি টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পেটে, মামলাতেও ফল পায়নি ডেসকো
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
অভিযুক্ত কুরুম/সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর বনানীর বেলতলা বস্তি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস এখানে। ডেসকোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ১৬০০ পরিবার। প্রতি মাসে নিয়মিত বিলও পরিশোধ করছেন তারা। কিন্তু সেই টাকা যাচ্ছে না সরকারের কোষাগারে — যাচ্ছে স্থানীয় সিন্ডিকেটের পকেটে।
এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন কুরুম নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি ইতিমধ্যে আত্মসাৎ করেছেন বিলের কোটি টাকা।
যেভাবে চলে বাণিজ্য
বস্তিতে বৈধ মিটার মাত্র ৫টি। এগুলো ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে, সেই সুযোগে মিটারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন কুরুমসহ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী। পরে একাই পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন কুরুম।
এরপর তৈরি হয় অদ্ভুত এক ‘পয়েন্ট’ ব্যবস্থা — টিভি, ফ্যান বা বাতি একটি পয়েন্ট হলে গুনতে হয় ৩০০ টাকা, ফ্রিজ থাকলে তা ‘ডাবল পয়েন্ট’ — ৬০০ টাকা। এই হিসাবে প্রতি মাসে আদায় হয় ২৫-৩০ লাখ টাকা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় দ্বিগুণ বিল আদায় করা হয়। টাকা না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, দেখানো হয় ভয়ভীতি।
ভুক্তভোগীদের কথায়
বাসিন্দা মনি বেগম বলেন, ছয়টি রুমের জন্য মাসে ৬ হাজার টাকা বিল গুনতে হয়, অথচ বাস্তবে এত টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। আবু তালেবের ভাষ্যে, টিভি-ফ্যান-লাইট-ফ্রিজ মিলিয়ে মাসে গুনতে হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা। রেজাউল করিমের হিসাবে, দেড় হাজার টাকার বেশি বিল আসার কথা না থাকলেও দিতে হচ্ছে ৪ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানের অসহায়ত্ব
ডেসকোর হিসাবে বেলতলা বস্তিতে বর্তমান বকেয়া ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই টাকা তুলতে কুরুমের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে সংস্থাটি। ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ যুগান্তরকে জানান, ‘বেলতলা বস্তির বিদ্যুৎসংক্রান্ত বকেয়া, বকেয়া আদায়ের কার্যক্রম ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনরা অবগত। টাকা তুলতে মামলাও করা হয়েছে। তবুও টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ চুরি ও বিল বকেয়া থাকার সুযোগ থাকবে না।’
আইনের ফাঁক গলে প্রকাশ্যে কুরুম
গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সমন জারি থাকলেও প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন কুরুম — সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন নিয়মিত। থানা-পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বনানী থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, কুরুমকে ধরতে অভিযান চলমান, বর্তমানে তিনি পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
কুরুমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
