রাজধানীতে ফ্ল্যাটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ, যা জানালেন খালাতো ভাই
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর হাজারীবাগে রাফসাদ মোস্তফা রুহিন (২২) নামে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হাজারীবাগ থানার ৪/এ নম্বর রোডের জাহানারা মেনশন ৯/৪ নম্বর বাসার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের খালাতো ভাই ইমতিয়াজ কামাল জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকেও রাফসাদের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। তখন রাফসাদ জানিয়েছিল, জিম শেষ করে সে একটি সেলুনে চুল কাটতে এসেছে। সেখান থেকে তার বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রুহিন আর বিমানবন্দরে যেতে পারেনি।
তিনি জানান- তাদের ধারণা, মঙ্গলবার দিনগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ডাইনিং রুম সংলগ্ন একটি ছোট কক্ষে সবার অগোচরে ঘটনাটি ঘটে। সকালে তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানান। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে রাফসাদের লাশ উদ্ধার করে।
ইমতিয়াজ আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে রাফসাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে মেয়েটির নাম তারা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। তাদের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বা মনোমালিন্যের জেরেই রাফসাদ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।
জানা গেছে, রাফসাদ মোস্তফা রুহিন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তার বড় ভাই মালয়েশিয়ায় প্রবাসী।
নিহতের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর হাজারীবাগের ঝিগাতলা ৪/এ রোডের জাহানারা মেনশন ৯/৪ নম্বর বাসার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন।
হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. শামীম মিয়া জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার দুপুরের দিকে হাজারীবাগের ৪/এ নম্বর রোডের জাহানারা মেনশনের পঞ্চম তলা থেকে রাফসাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বজনদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে রাফসাদ নিজ ডাইনিং রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

