Logo
Logo
×

Advertisement

রাজধানী

ইস্কাটনে ‘কৃষকের বাজার’ উচ্ছেদ, লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

Advertisement

Icon

ইমন রহমান

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

ইস্কাটনে ‘কৃষকের বাজার’ উচ্ছেদ, লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

ইস্কাটন গার্ডেনে রাস্তার পাশের ফুটপাতে ‘কৃষকের বাজার’। ফাইল ছবি

Advertisement

রাজধানীর রমনা থানাধীন ইস্কাটন গার্ডেনে রাস্তার পাশের ফুটপাতে প্রতি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বসে ‘কৃষকের বাজার’। প্রায় ১০টি স্টল বা দোকানে নিজেদের খামারের তাজা সবজি বিক্রি করেন সাভার থেকে আসা কিছু কৃষক। স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত সেখান থেকে কেনাকাটা করেন। 

ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় চার বছর আগে সিটি কর্পোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা এবং উদ্যোগে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই এই বাজারের উদ্বোধন করা হয়েছিল। সাভারের হেমায়েতপুরের এসব কৃষক নিজেদের জমিতে ফলানো শাকসবজি নিয়ে প্রতি শুক্রবার ভোরে এখানে এসে দোকান বসাতেন। 

তবে হঠাৎ শুক্রবার সকালে রমনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাজারটি উচ্ছেদ করে। এ সময় মো. সোহরাব হোসেন নামের এক কৃষককে লাঞ্ছিত করা হয়, এমনকি তার জামা ছিঁড়ে হাতকড়া পরিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা দোকান উচ্ছেদের পর সবাইকে রমনা থানার ওসির সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেন। দোকানীদের অভিযোগ, মূলত চাঁদা না পেয়েই পুলিশ এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মো. ইয়াসিন মিয়া কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই কেন উচ্ছেদ করা হলো, তারও কোনো উত্তর ছিল না তার কাছে। 

ওসি বলেন, এখানে যে বাজার বসে তা আমাদের জানা ছিল না। সরকারি অনুমোদনের বিষয়টিও জানা নেই। রাস্তা পরিষ্কার ও যানজটমুক্ত রাখতেই এই উচ্ছেদ। 

এক কৃষককে হাতকড়া পরিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই, খোঁজ নিচ্ছি।

তবে উচ্ছেদ নিয়ে ওসির এমন সরল বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। 

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, ইস্কাটন গার্ডেনে এই রাস্তার এক পাশে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য ফাস্ট ফুডের দোকান বসে। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বিভিন্ন মহল মোটা অংকের চাঁদাও নিয়ে থাকে।   

কৃষকের বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার সকালে পুলিশ এসে হঠাৎ ১০ মিনিটের মধ্যে দোকান গুটিয়ে চলে যেতে বলে। দোকানীরা সিটি কর্পোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈধ কাগজপত্র দেখালেও পুলিশ তা গ্রাহ্য করেনি। সোহরাব নামের এক কৃষক দোকান সরাতে মাত্র ৫ মিনিট দেরি করায় তাকে মারধর করে বেঁধে রাখা হয়। 

ভুক্তভোগী কৃষক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, পুলিশ এসে দোকান তুলে নিতে বলে। আমাদের দোকানে দুজন ছিলাম। একজন জিনিসপত্র গোছাচ্ছিল আর আমি এক ক্রেতাকে কাঁচামরিচ মেপে দিচ্ছিলাম। দোকান সরাতে সামান্য দেরি হওয়ায় এক পুলিশ সদস্য আমার জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশের ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এখানকার ১০ জন দোকানীর মধ্যে ৯ জনের বাড়িই সাভারের হেমায়েতপুরে। গত চার বছর ধরে নিয়মিত শুক্রবার সকালে তারা এখানে সবজি বিক্রি করছেন। সিটি কর্পোরেশনই তাদের এখানে বসিয়েছিল এবং এর আগে কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। আগে কেউ চাঁদা বা টাকা দাবি করত না, কিন্তু এখন টাকা দিয়েও শান্তিতে ব্যবসা করা যাচ্ছে না। উচ্ছেদের কারণে তাদের বিপুল পরিমাণ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।  

বাজারটি কীভাবে শুরু হয়েছিল জানতে চাইলে আরেক দোকানী জানান, চার বছর আগে কৃষি মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে এই বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। তখনকার পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সময়েও এই বাজার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা চার বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। কেনাবেচা শেষে ফুটপাতে যে ময়লা-আবর্জনা জমে, তা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার করেন এবং এর জন্য আমরা প্রতি দোকান থেকে ২০ টাকা করে দিই। আমাদের কাছে কৃষক কার্ডসহ প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র আছে। পুলিশকে সেসব দেখালেও তারা শোনেনি; উল্টো পুলিশ সদস্য বলেন, ‘এগুলো তুই পর’। 

এই হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রতি দোকানে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। দোকানীদের আকুল আবেদন, সরকার যেন বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তাদের পুনরায় ফুটপাতে সবজি বিক্রির সুযোগ করে দেয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ইস্কাটনে ‘কৃষকের বাজার’ উচ্ছেদ, লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

ইস্কাটনে ‘কৃষকের বাজার’ উচ্ছেদ, লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

বাংলাদেশ জেনারেল নলেজ ক্লাবের উদ্যোগে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জেনারেল নলেজ ক্লাবের উদ্যোগে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঢাকার ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে চলবে বাস, ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শুরু

ঢাকার ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে চলবে বাস, ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শুরু

বাংলা একাডেমিতে মোবাইল ফটোগ্রাফি কর্মশালা

বাংলা একাডেমিতে মোবাইল ফটোগ্রাফি কর্মশালা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম