জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে ২১ স্কুলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে রাজধানীর ২১টি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, দায়িত্ববোধ ও শ্রমের মর্যাদা গড়ে তোলার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের উদ্যোগে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’ এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
বুধবার সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সাপ্তাহিক ডেঙ্গু ঝুঁকি পরিদর্শন, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং বাসায় পরিচ্ছন্নতার চর্চা চালু করা হবে। বিদ্যালয় থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে সমাজে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখার বিষয় নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আজকের পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়ই আগামী দিনের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির ভিত্তি।
বিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষ, করিডোর ও পাঠাগারের মতো নিরাপদ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষকরা কার্যক্রম তদারকি করবেন। তবে টয়লেট, নোংরা ড্রেন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিষ্কার করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ও-সোজি মডেল শুধু পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস পরিবার ও সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি।
কর্মসূচির আওতায় প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু ঝুঁকি পরিদর্শন করা হবে। পানি জমার স্থান চিহ্নিত করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি চেকলিস্টে লিপিবদ্ধ করা হবে।
এ ছাড়া ‘আমার বাসা, আমার দায়িত্ব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা চেকলিস্ট দেওয়া হবে। এতে ঘর গুছিয়ে রাখা, বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলা এবং বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়গুলো থাকবে। প্রতি রোববার শিক্ষকরা চেকলিস্ট মূল্যায়ন করবেন।
বিদ্যালয়গুলোতে পচনশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও অন্যান্য বর্জ্য আলাদাভাবে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।
পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। সেরা বিদ্যালয়, শ্রেণি ও শিক্ষার্থীদের সনদ, বই, শিক্ষা উপকরণ কিংবা গাছের চারা দিয়ে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব রয়েছে।
এর আগে গত ৮ জুলাই রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এরপর প্রায় তিন মাস ধরে গবেষণা, বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন দেশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের উপযোগী করে জাপানের ও-সোজি মডেলের আদলে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।
