স্বর্ণ সঞ্চয়ের মোবাইল অ্যাপ 'গোল্ড কিনেন'। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুগযুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে আবেগ, ঐতিহ্য এবং নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে স্বর্ণ নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। বিয়ের উপহার থেকে শুরু করে পরিবারের দুর্দিনের ভরসা পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই স্বর্ণ সমৃদ্ধি, মর্যাদা ও স্থায়িত্বের প্রতিনিধিত্ব করে এসেছে। তবে এই আবেগঘন সম্পদকে দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনার অংশ করে তোলা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ মূল্য ওঠানামা, বিশুদ্ধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সহজলভ্যতার সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বাধা হয়ে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন সংকটের প্রভাবে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে স্বর্ণ ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণকে আরও সহজলভ্য ও সঞ্চয়যোগ্য করে তোলার বিকল্প উপায় নিয়ে নতুনভাবে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
এ প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দেশের প্রথম গোল্ড সঞ্চয়ের অ্যাপ 'গোল্ড কিনেন' যাত্রা শুরু করে। স্বচ্ছতা ও সরলতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই অ্যাপটি স্বর্ণ কেনা, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ধারণায় পরিবর্তন আনছে, ফলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বর্ণ আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে।
অ্যাপটিতে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতিদিনের অফিশিয়াল বাজারমূল্য সরাসরি প্রদর্শিত হয়, যার ফলে ব্যবহারকারীরা ন্যায্যমূল্যে স্বর্ণ কেনার সুযোগ পান। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীরা বার বা কয়েন আকারে সঞ্চিত স্বর্ণ সংগ্রহ করতে পারেন এবং এর সঙ্গে বিশুদ্ধতা ও ওজনের সনদ প্রদান করা হয়।
মাত্র ৫০০ টাকা থেকে ভগ্নাংশ আকারে স্বর্ণ কেনার সুযোগ থাকায়, যারা আগে স্বর্ণ কিনতে পারতেন না, তারাও এখন সহজে সঞ্চয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্বর্ণ ক্রয়, সঞ্চয়, উপহার বা বিক্রয় করতে পারেন। একইসঙ্গে, সঞ্চিত স্বর্ণ ০.৫ থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত বার বা কয়েন আকারে ঢাকায় হোম ডেলিভারি বা দেশজুড়ে ৬৫০টিরও বেশি নির্ধারিত পিক-আপ পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করা যায়।
সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সঞ্চিত গোল্ড দেশের এক স্বনামধন্য সিকিউরিটি কোম্পানির ব্যাংক-গ্রেড নিরাপদ ভল্টে বীমাকৃতভাবে সঞ্চিত থাকে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মাধ্যমে ভগ্নাংশ স্বর্ণ তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো পরিমাণ সঞ্চিত স্বর্ণ বাজারমূল্যে বিক্রি করতে পারেন, আর বার বা কয়েনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ বাজারদরের ভিত্তিতে পুনরায় বিক্রয়ের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে স্বর্ণ দীর্ঘদিন ধরে স্থির সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন এর ব্যবহারিক ধারণায় পরিবর্তন আসছে। গোল্ড কিনেনের মাধ্যমে স্বর্ণ একটি গতিশীল, নমনীয় এবং ব্যবহারিক সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সামনে আসছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশেরও বেশি পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সুবিধা পেয়েছেন। ফলে স্বর্ণ এখন আর শুধু সিন্দুকে রাখা সম্পদ নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে আধুনিক আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

-69d22d1b697b3.jpg)