প্রাইভেটকারে গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম
নিহত মোহাম্মদ আবদুল হাকিম। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের মদুনাঘাটে চলন্ত প্রাইভেটকারে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে মোহাম্মদ আবদুল হাকিম (৬৫) নামে এক বিএনপি কর্মীর নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার বিকালে রাউজান মদুনাঘাট ব্রিজ সংলগ্ন হাটহাজারী এলাকায় তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবদুল হাকিম বাগোয়ান ইউনিয়নের পাচখাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত হামিম এগ্রো নামে একটি গরুর খামারের সত্ত্বাধিকারী। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে জানা গেছে।
আবদুল হাকিম হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা এ অবরোধ করেন। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। অবরোধকারীরা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দোসররা বিএনপির ছদ্মবেশে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবদুল হাকিম রাউজান উপজেলার পাঁচখাইন এলাকার নেয়ামত আলীর বাড়ির মদন মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার বিকালে তিনি ফার্মের কাজ সেরে নিজের গাড়িতে করে চট্টগ্রাম শহরে যাচ্ছিলেন। তার গাড়ি হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট বাজার পৌঁছালে মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রথমে আবদুল হাকিমের গাড়ির চাকায় গুলি করে। এরপর গাড়ি থেমে গেলে সামনের আসনে বসা আবদুল হাকিমকে গাড়ির সামনের ও পাশের গ্লাসের ওপর দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। গাড়ির কাঁচ ফুটো হয়ে বেশ কয়েকটি গুলি তার শরীরে লাগে। এতে গাড়ির সিটে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঢলে পড়েন। দুর্বৃত্তরা পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করার পর মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নগরীর অনন্যা আবাসিকের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, কারা, কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই বলতে পারছি না।
হাটহাজারীর মদুনাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক কার্তিক দত্ত যুগান্তরকে বলেন, খবর পাওয়ার পর আমরা গিয়ে আহত আবদুল হাকিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে পারব।
প্রসঙ্গত, রাউজানে বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। আরেকটি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী। দুই গ্রুপের মধ্যে ৫ আগস্টের পর থেকে সংঘাত-সংঘর্ষ ও খুনোখুনি লেগে আছে। বিএনপিতে আবদুল হাকিমের কোনো পদ পদবি আছে কিনা, জানা না গেলেও তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি এলাকায়।
