খুলনা-৬ আসন
মামলায় এগিয়ে জামায়াতের আজাদ, সম্পদে বিএনপির বাপ্পী
Advertisement
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে চার রাজনৈতিক দলের চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই চার প্রার্থীর পেশা, আয়, সম্পদ, মামলা ও কর প্রদানের ক্ষেত্রে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষক, আবার কেউ আইন পেশায় নিয়োজিত। অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মামলার সংখ্যার দিক থেকে প্রার্থীদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন।
মামলার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ। হলফনামায় তিনি ৩৪টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব মামলায় তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা সাক্ষী হিসাবে জড়িত বলে জানিয়েছেন। আবুল কালাম আজাদের মোট সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম। অস্থাবর ও স্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন মাত্র ৪ হাজার টাকা। তার সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, বন্ড ও শেয়ার, স্বর্ণালংকার এবং একটি অকৃষি জমি রয়েছে। কয়রায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া টিনশেড বসতবাড়ির কথা উল্লেখ করলেও এর আর্থিক মূল্য উল্লেখ করেননি তিনি। তার স্ত্রীর নামেও সীমিত পরিমাণ সম্পদের তথ্য রয়েছে।
চার প্রার্থীর মধ্যে সম্পদ ও আয়কর প্রদানে সবচেয়ে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থী এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবর ও স্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩ হাজার ৮৩৬ টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৮১৬ টাকা। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯ টাকা।
বাপ্পীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও খুলনায় বাড়ি, কৃষিজমি ও মাছের খামারসহ প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে তার নামে ঠিকাদারি ব্যবসা ও গৃহনির্মাণ বাবদ ব্যাংক ঋণসহ দায় রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামেও অস্থাবর ও স্থাবর মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আছাদুল্লাহ ফকির পেশায় শিক্ষক। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রশান্ত কুমার মণ্ডল পেশায় আইনজীবী। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৩ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। সবমিলিয়ে খুলনা-৬ আসনে চার প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক অবস্থান। একদিকে কোটি টাকার সম্পদ ও উচ্চ আয়, অন্যদিকে সীমিত আয় ও সম্পদের তথ্য-সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা ও অতীত রেকর্ডের দিক থেকেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
