Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

দোকান বাকি নিয়ে তর্ক, এনসিপি কর্মীকে ধরে নিয়ে যুবদল নেতার মারধর

Icon

ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

দোকান বাকি নিয়ে তর্ক, এনসিপি কর্মীকে ধরে নিয়ে যুবদল নেতার মারধর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দোকান বাকির টাকা নিয়ে তর্কে এনসিপি কর্মীকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

রোববার দুপুরে ফতুল্লার মধ্য রসুলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ১১টায় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজের চাচা হানিফ মিয়ার দোকান থেকে কোমল পানীয় (মোজো) নিয়ে টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে চলে যাচ্ছিলেন এনসিপি কর্মী সোহাগ। এ সময় দোকানদার হানিফ তাকে বাকি দিবেন না বলে জানান। তখন সোহাগ দোকানদারকে গালি দেয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সোহাগকে দূরে সরিয়ে দেন। তখন দোকানদারি কেমনে করবি- হানিফ মিয়াকে এ হুমকি দিয়ে সোহাগ চলে যান। বিষয়টি রোববার সকালে হানিফ তার ভাতিজা মাসুম রাজকে জানালে তিনি দলবল নিয়ে রাস্তা থেকে সোহাগকে ধরে তার দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং মারধর করেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তি সদস্য সচিব নাসিম আহমেদ জানান, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজ জুলাই আন্দোলনের পর কুতুবপুর এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের এনসিপির কর্মী সোহাগকে রাস্তা থেকে দলবল নিয়ে তার ক্লাবে নেয়। এরপর তার ক্লাবে সোহাগকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাসুমের ক্লাব থেকে সোহাগকে উদ্ধার করে থানায় খবর দিয়েছি। মাসুমকে গ্রেফতার করা হলে এলাকাবাসী শান্তিতে থাকতে পারবেন।

মাসুম রাজ জানান, সোহাগ কোনো দলের কর্মী না। সে এলাকায় বখাটে এবং মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এলাকার প্রতিটি মুদি দোকানদারকে সোহাগ মারাত্মক হয়রানি করেন। সিগারেট মোজোসহ বিভিন্ন সদাই নিয়ে টাকা পরে দিবে বলে চলে যায়। এরপর টাকা চাইলেই নানাভাবে হুমকি দেয়। গত শনিবার রাতেও হানিফ মিয়ার দোকান থেকে মোজো নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। তখন টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধ দোকানদার হানিফকে মারধর করতে ক্ষেপে যায়। রোববার সকালে সোহাগ ও তার মা পারভিনকে ডেকে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আনি। এরপর উভয়পক্ষের কথা শুনি। তখন সোহাগকে তার মা পারভিন বেগম চর থাপ্পড় দিয়ে হানিফ মিয়ার সঙ্গে মিলেয়ে দেন। পরবর্তীতে এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে নাসিম আহমেদ নামে এক ছেলে এসে গায়েপড়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করেন।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন চন্দ্র সরকার জানান, সোহাগ নামের ছেলেটি অপরাধ করেছে। তার অপরাধের বিচার তার মা করে মীমাংসা করেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম