স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মদদে হতদরিদ্রের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ব্যক্তি মালিকানা জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ফিরোজ মাতুব্বর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নগরকান্দার পৌরসভার নতুন ব্রিজসংলগ্ন ছাগলদি এলাকায় রাতারাতি দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। দোকান ঘর নির্মাণে স্থানীয় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. ইয়াকুব আলী। এ নিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরকান্দার মিনার গ্রামের হতদরিদ্র মো. ইয়াকুব আলী সরকারের কাছ থেকে কুমার নদের পার্শ্ববর্তী ৫২ শতাংশ জায়গা ভূমিহীন হিসেবে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেন; যা সরকারের তরফ থেকে তাকে দলিল মূলে লিখে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কুমার নদে ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকার ৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে। বাকি জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন ইয়াকুব আলী।
সম্প্রতি নতুন ব্রিজ সম্পন্ন হবার পর রাস্তার পাশের জমিসহ ইয়াকুব আলীর জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করছেন স্থানীয় ফিরোজ মাতুব্বর। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ফিরোজ মাতুব্বর তার দলবল নিয়ে জোরপূবর্ক দোকান ঘর নির্মাণ করে। এ নিয়ে ইয়াকুব আলী বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ইয়াকুব আলী বলেন, আমার জায়গায় জোরপূর্বক রাতারাতি দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন ফিরোজ মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বতু শেখসহ তার সহযোগীরা। আমি আমার জায়গায় দোকানঘর তৈরিতে বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে খুন করার হুমকি দিয়ে আমাকে জায়গা থেকে সরিয়ে দেয়। আমি এ নিয়ে কোনো কথা বললে তারা আমার পুরো জায়গাটি দখল করে নেবে বলেও হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি সরকারি ও ব্যক্তিগত জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণের কাজ করেছে; যা দেখতে দৃষ্টিকটু লাগছে। দলের নাম ব্যবহার করে যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজ মাতুব্বর বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। আমি ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে জমি কিনে সেখানে দোকান ঘর উত্তোলন করছি। আমি কারো জায়গা দখল করিনি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার পরিদর্শক গোলাম রসুল সামদানি বলেন, এ নিয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুইপক্ষকেই তাদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
